
অ্যাপ চালুর পর গতকাল রোববার রাত ৮টা পর্যন্ত এসব অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে বসবাস করা ১৭ হাজার ৯০৭ জন প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন করেছেন। তাদের মধ্যে পুরুষ ১৬ হাজার ৩৫৫ জন। নারী ১ হাজার ৫৫২ জন।
আমেরিকা, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়াসহ ১৬টি দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আজ সোমবার (২৪ নভেম্বর) রাত ১২টা থেকে ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।
এ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ প্রবাসীর ভোটাধিকার নিশ্চিত হবে বলে মনে করছে ইসি। সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেন, “তাদের (প্রবাসী) ভোট দেওয়ার মাধ্যমে গণতন্ত্রের ভিত্তি আরও বিস্তৃত আরও প্রতিনিধিত্বশীল ও শক্তিশালী হবে।”
নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, প্রবাসী ভোটারদের নির্বাচনের ২০ দিন আগে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে হবে। ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া ছাড়া এই নির্বাচনে ভোট দেওয়া সম্ভব নয়।
প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন অ্যাপের উদ্বোধন ১৬ নভেম্বরের পরিবর্তে ১৮ নভেম্বর হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
ইসির নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, নিবন্ধন শেষ হলে সেই তথ্য সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে চলে যাবে। তাদের মাধ্যমে পৃথক ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা হবে। এরপর নির্ধারিত সময়ে ভোটারের ঠিকানায় তিন খামের ভেতর ব্যালট পাঠানো হবে।
দেশভিত্তিক প্রবাসী ভোটারের সংখ্যা অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৯ হাজার ৩৪০ জন, সৌদি আরবে ৬৮৯ জন, ইতালিতে ১ হাজার ৫৭ জন, যুক্তরাজ্যে (লন্ডন ও ম্যানচেস্টার) ৩ হাজার ৭৯০ জন, কুয়েতে ২২১ জন, কাতারে ৪৪৪ জন, মালয়েশিয়ায় ৩১৯ জন, অস্ট্রেলিয়ায় ১২ জন এবং জাপানে পাঁচজন ইতিমধ্যেই ভোটার হয়েছেন।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিপ্রবাসী বাংলাদেশিরা অভিযোগ করেছেন, ভোটার নিবন্ধনের বিষয়ে স্থানীয় বাংলাদেশ কনস্যুলেট এখন পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে তারা জানতে পারেননি। কয়েকজন জানান, নিবন্ধনের জন্য তারা সিডনির কনস্যুলেটে যোগাযোগ করেছিলেন। কিন্তু নিবন্ধনের বিষয়ে কোনো তথ্য তারা জানতে পারেননি।
‘আমরা এই বিষয়ে আলোচনা করেছি। তাদের [প্রবাসী] দুটি সমস্যার কথা তুলেছিলাম—একটা হচ্ছে আইডি কার্ড। এটা অবশ্যই হবে, যদিও কিছু জটিলতা আছে। তার বাইরে অন্য কোনো ডকুমেন্ট দিয়ে করা যায় কি না, আজ নির্বাচন কমিশন বলেছে যে, জন্মসনদের মাধ্যমেও ভোটার হওয়া সম্ভব। এতে একটা সমাধান পাওয়া যেতে পারে।’
জাতীয় নির্বাচনের আর মাত্র চার মাস বাকি আছে। এত অল্প সময়ের মধ্যে সবকিছু সম্পন্ন করা নির্বাচন কমিশনের জন্য কঠিন একটা কাজ হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। পাশাপাশি এই গুরুদায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক ভুলভ্রান্তিও হতে পারে। কিন্তু তাই বলে, এটার অজুহাতে প্রবাসীদের ভোটাধিকারে বঞ্চিত করা কি সংগত হবে?
সৌদি আরবের বন্দর নগরী জেদ্দায় এই ঐতিহাসিক উদ্যোগের প্রতি প্রবাসী বাংলাদেশিদের সাড়া এখনো আশানুরূপ নয়। মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটিতে প্রায় ৩০ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত আছেন, তাদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র ২ হাজার ৫০০ জন ভোটার হিসেবে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন।
বিশ্বব্যাপী অভিজ্ঞতা বলে, অনেক দেশে প্রবাসী নাগরিকেরা দূতাবাসে গিয়ে আগেভাগে ভোট দেন বা ডাক-ভোটের ব্যবস্থা ব্যবহার করেন। তাতে ভোটারদের আইনগত অধিকার রক্ষা পায়, কিন্তু অংশগ্রহণের হার সাধারণত স্থায়ী বসবাসকারী ভোটারদের তুলনায় কম থাকে।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোটপ্রতি ৭০০ টাকা ব্যয় হবে জানিয়ে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, এর মধ্যে ৫০০ টাকা খরচ হবে প্রবাসে আনা-নেওয়ায় আর ২০০ টাকা অন্য খাতে।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিবন্ধনের জন্য ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ নামের অ্যাপ তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ভোট দেবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রবাসী বাংলাদেশিরা যাতে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে সে জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা আছে বলে ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
মালয়েশিয়ার পেনাং, কেডাহ ও পেরাক প্রদেশসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে জাতীয় নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোটদান বিষয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে জাতীয় নির্বাচনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটদান বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ছাড়া, অনুষ্ঠানে প্রবাসীদের মাঝে জাতীয় পরিচয়পত্র (স্মার্টকার্ড) বিতরণ করা হয়।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিবন্ধিত প্রবাসী ভোটার ও জাতীয় পরিচয়পত্রধারী (এনআইডি) বাংলাদেশিরা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।
নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার বলেন, তারা কমিশনের পক্ষ থেকে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের প্রস্তাব করেছেন। এর মধ্যে নিম্নকক্ষ হবে বর্তমান আসনভিত্তিক। আর উচ্চকক্ষ হবে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের (পিআর)। সংবিধান সংস্কার কমিশনও একই রকম প্রস্তাব করেছে।

জাতীয় নির্বাচনের আর মাত্র চার মাস বাকি আছে। এত অল্প সময়ের মধ্যে সবকিছু সম্পন্ন করা নির্বাচন কমিশনের জন্য কঠিন একটা কাজ হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। পাশাপাশি এই গুরুদায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক ভুলভ্রান্তিও হতে পারে। কিন্তু তাই বলে, এটার অজুহাতে প্রবাসীদের ভোটাধিকারে বঞ্চিত করা কি সংগত হবে?
১৩ অক্টোবর ২০২৫