
জামান সরকার, হেলসিংকি (ফিনল্যান্ড) থেকে

উত্তরের শান্ত, শীতল অথচ উন্নত রাষ্ট্র ফিনল্যান্ড—বিশ্ব মানচিত্রে এক অনন্য নাম। পরপর ৮ বার বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশের মর্যাদা অর্জনকারী এই দেশটি শুধু অর্থনৈতিকভাবে নয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও আন্তর্জাতিক স্তরেও এক উজ্জ্বল উদাহরণ।
দেশটির প্রধান প্রাকৃতিক সম্পদ
*বনসম্পদ: দেশটির প্রায় ৭৩ শতাংশ বনভূমি, যা ইউরোপে সর্বোচ্চ। বনের সম্পদ কাঠ, কাগজ ও সেলুলোজ শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
*খনিজসম্পদ: লোহা, তামা, নিকেল, সোনা, ক্রোমিয়াম, সীসা ও দস্তা। ফিনল্যান্ড ইউরোপের অন্যতম সোনার উৎপাদক।
*জলসম্পদ: প্রচুর হ্রদ ও নদী রয়েছে, যা হাইড্রোইলেকট্রিক শক্তি উৎপাদন ও কাগজ শিল্পে ব্যবহৃত হয়।

রপ্তানি ও আমদানি পণ্য
প্রধান রপ্তানি পণ্য যন্ত্রপাতি ও যান্ত্রিক উপকরণ, বিদ্যুৎ ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি, কাগজ ও সেলুলোজ, লোহা ও ইস্পাত, মোটরযান ও যন্ত্রাংশ এবং কাঠ ও কাঠজাত পণ্য।
প্রধান রপ্তানি গন্তব্য: জার্মানি, সুইডেন, চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও নেদারল্যান্ডস।
প্রধান আমদানি পণ্য খনিজ জ্বালানি ও তেল, যন্ত্রপাতি ও যান্ত্রিক উপকরণ, বিদ্যুৎ ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি, মোটরযান ও যন্ত্রাংশ, আয়রন ও ইস্পাত, ওষুধ ও ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য।
প্রধান আমদানি উৎস: জার্মানি, সুইডেন, চীন, নরওয়ে ও যুক্তরাষ্ট্র।
অর্থনৈতিক চিত্র (২০২৫)
*মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি): $৩১৯ দশমিক ৯৯ বিলিয়ন (নমিনাল)
*মাথাপিছু আয়: $৫৭ দশমিক ১৮১ (নমিনাল)
অর্থনৈতিক খাতের অবদান
*সেবা খাত: ৬৯ দশমিক ১ শতাংশ
*শিল্প খাত: ২৮ দশমিক ২ শতাংশ
*কৃষি খাত: ২ দশমিক ৭ শতাংশ
*বেকারত্ব হার: ৯ দশমিক ২ শতাংশ (জানুয়ারি ২০২৫)
*মুদ্রাস্ফীতি হার: ১ দশমিক ৬ শতাংশ (২০২২)
*মানব উন্নয়ন সূচক (HDI): ০ দশমিক ৯৪০ (২০২১), বিশ্বের ১১তম স্থান
টেকসই শক্তি ও পরিবেশ
*বায়োমাস: ৩৮ শতাংশ
*হাইড্রোইলেকট্রিক: ৬ দশমিক ১ শতাংশ
*বায়ু শক্তি: ৩ দশমিক ৩ শতাংশ
দেশটি ২০৩৫ সালের মধ্যে কার্বন নিরপেক্ষতা অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করছে।

আইন-শৃঙ্খলা ও সুখ
আইন-শৃঙ্খলা ও দুর্নীতিমুক্ততার দিক থেকে ফিনল্যান্ড বিশ্বের শীর্ষে। পুলিশ ও প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা বিস্ময়করভাবে দৃঢ়। এই সুশাসন, সামাজিক সমতা, মানসম্পন্ন শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্যই গড়েছে ‘সুখী দেশ’—যার সুফল উপভোগ করেন প্রায় ৫৬ লাখ নাগরিক।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও সহায়তা
ফিনল্যান্ড ২০২৩ সালে ন্যাটোর সদস্যপদ অর্জনের মধ্য দিয়ে নিরাপত্তা নীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আর্কটিক অঞ্চলে তার কৌশলগত অবস্থান ও পরিবেশবান্ধব কূটনীতি আন্তর্জাতিক ফোরামে তাকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে। প্রতি বছর ফিনল্যান্ড প্রায় ১ বিলিয়ন ইউরো উন্নয়ন সহায়তা দিয়ে থাকে।
বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক
বাংলাদেশ ও ফিনল্যান্ডের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ক্রমবর্ধমান। ২০২৩ সালে বাংলাদেশ ফিনল্যান্ডে ২১৯ মিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক, জুতা ও হস্তশিল্প রপ্তানি করেছে। ফিনিশ কোম্পানিগুলো বাংলাদেশের প্রযুক্তি ও টেক্সটাইল খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী।

খেলাধুলা, সংগীত ও সৌন্দর্য
ফিনল্যান্ডে খেলাধুলা শুধু বিনোদন নয়, জাতীয় গর্ব। আইস হকি, স্কি, ও ম্যারাথন জাতীয় খেলায় ফিনিশরা বিশ্বখ্যাত। সংগীতপ্রেমী জাতি ফিনল্যান্ড বিশ্ববিখ্যাত সিম্ফনি রচয়িতা জঁ সিবেলিয়াস এখানকার গর্ব। মেটাল মিউজিক থেকে ক্লাসিক্যাল, সব ধারাতেই ফিনল্যান্ডের অবস্থান সুপ্রতিষ্ঠিত। সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায়ও ফিনল্যান্ড বহুবার আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিনিধিত্ব করেছে।
উপসংহার
ফিনল্যান্ড শুধুই একটি উন্নত রাষ্ট্র নয়—এটি একটি সুশৃঙ্খল, সমৃদ্ধ, মানবিক ও সংস্কৃতিবান জাতির প্রতিচ্ছবি। বাংলাদেশের জন্য এটি হতে পারে শেখার এক অনন্য ক্ষেত্র—যেখানে সুশাসন, উদ্ভাবন, শান্তি ও প্রগতির পথ এক সুসংহত নীতিতে বাধা।

উত্তরের শান্ত, শীতল অথচ উন্নত রাষ্ট্র ফিনল্যান্ড—বিশ্ব মানচিত্রে এক অনন্য নাম। পরপর ৮ বার বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশের মর্যাদা অর্জনকারী এই দেশটি শুধু অর্থনৈতিকভাবে নয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও আন্তর্জাতিক স্তরেও এক উজ্জ্বল উদাহরণ।
দেশটির প্রধান প্রাকৃতিক সম্পদ
*বনসম্পদ: দেশটির প্রায় ৭৩ শতাংশ বনভূমি, যা ইউরোপে সর্বোচ্চ। বনের সম্পদ কাঠ, কাগজ ও সেলুলোজ শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
*খনিজসম্পদ: লোহা, তামা, নিকেল, সোনা, ক্রোমিয়াম, সীসা ও দস্তা। ফিনল্যান্ড ইউরোপের অন্যতম সোনার উৎপাদক।
*জলসম্পদ: প্রচুর হ্রদ ও নদী রয়েছে, যা হাইড্রোইলেকট্রিক শক্তি উৎপাদন ও কাগজ শিল্পে ব্যবহৃত হয়।

রপ্তানি ও আমদানি পণ্য
প্রধান রপ্তানি পণ্য যন্ত্রপাতি ও যান্ত্রিক উপকরণ, বিদ্যুৎ ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি, কাগজ ও সেলুলোজ, লোহা ও ইস্পাত, মোটরযান ও যন্ত্রাংশ এবং কাঠ ও কাঠজাত পণ্য।
প্রধান রপ্তানি গন্তব্য: জার্মানি, সুইডেন, চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও নেদারল্যান্ডস।
প্রধান আমদানি পণ্য খনিজ জ্বালানি ও তেল, যন্ত্রপাতি ও যান্ত্রিক উপকরণ, বিদ্যুৎ ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি, মোটরযান ও যন্ত্রাংশ, আয়রন ও ইস্পাত, ওষুধ ও ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য।
প্রধান আমদানি উৎস: জার্মানি, সুইডেন, চীন, নরওয়ে ও যুক্তরাষ্ট্র।
অর্থনৈতিক চিত্র (২০২৫)
*মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি): $৩১৯ দশমিক ৯৯ বিলিয়ন (নমিনাল)
*মাথাপিছু আয়: $৫৭ দশমিক ১৮১ (নমিনাল)
অর্থনৈতিক খাতের অবদান
*সেবা খাত: ৬৯ দশমিক ১ শতাংশ
*শিল্প খাত: ২৮ দশমিক ২ শতাংশ
*কৃষি খাত: ২ দশমিক ৭ শতাংশ
*বেকারত্ব হার: ৯ দশমিক ২ শতাংশ (জানুয়ারি ২০২৫)
*মুদ্রাস্ফীতি হার: ১ দশমিক ৬ শতাংশ (২০২২)
*মানব উন্নয়ন সূচক (HDI): ০ দশমিক ৯৪০ (২০২১), বিশ্বের ১১তম স্থান
টেকসই শক্তি ও পরিবেশ
*বায়োমাস: ৩৮ শতাংশ
*হাইড্রোইলেকট্রিক: ৬ দশমিক ১ শতাংশ
*বায়ু শক্তি: ৩ দশমিক ৩ শতাংশ
দেশটি ২০৩৫ সালের মধ্যে কার্বন নিরপেক্ষতা অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করছে।

আইন-শৃঙ্খলা ও সুখ
আইন-শৃঙ্খলা ও দুর্নীতিমুক্ততার দিক থেকে ফিনল্যান্ড বিশ্বের শীর্ষে। পুলিশ ও প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা বিস্ময়করভাবে দৃঢ়। এই সুশাসন, সামাজিক সমতা, মানসম্পন্ন শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্যই গড়েছে ‘সুখী দেশ’—যার সুফল উপভোগ করেন প্রায় ৫৬ লাখ নাগরিক।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও সহায়তা
ফিনল্যান্ড ২০২৩ সালে ন্যাটোর সদস্যপদ অর্জনের মধ্য দিয়ে নিরাপত্তা নীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আর্কটিক অঞ্চলে তার কৌশলগত অবস্থান ও পরিবেশবান্ধব কূটনীতি আন্তর্জাতিক ফোরামে তাকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে। প্রতি বছর ফিনল্যান্ড প্রায় ১ বিলিয়ন ইউরো উন্নয়ন সহায়তা দিয়ে থাকে।
বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক
বাংলাদেশ ও ফিনল্যান্ডের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ক্রমবর্ধমান। ২০২৩ সালে বাংলাদেশ ফিনল্যান্ডে ২১৯ মিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক, জুতা ও হস্তশিল্প রপ্তানি করেছে। ফিনিশ কোম্পানিগুলো বাংলাদেশের প্রযুক্তি ও টেক্সটাইল খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী।

খেলাধুলা, সংগীত ও সৌন্দর্য
ফিনল্যান্ডে খেলাধুলা শুধু বিনোদন নয়, জাতীয় গর্ব। আইস হকি, স্কি, ও ম্যারাথন জাতীয় খেলায় ফিনিশরা বিশ্বখ্যাত। সংগীতপ্রেমী জাতি ফিনল্যান্ড বিশ্ববিখ্যাত সিম্ফনি রচয়িতা জঁ সিবেলিয়াস এখানকার গর্ব। মেটাল মিউজিক থেকে ক্লাসিক্যাল, সব ধারাতেই ফিনল্যান্ডের অবস্থান সুপ্রতিষ্ঠিত। সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায়ও ফিনল্যান্ড বহুবার আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিনিধিত্ব করেছে।
উপসংহার
ফিনল্যান্ড শুধুই একটি উন্নত রাষ্ট্র নয়—এটি একটি সুশৃঙ্খল, সমৃদ্ধ, মানবিক ও সংস্কৃতিবান জাতির প্রতিচ্ছবি। বাংলাদেশের জন্য এটি হতে পারে শেখার এক অনন্য ক্ষেত্র—যেখানে সুশাসন, উদ্ভাবন, শান্তি ও প্রগতির পথ এক সুসংহত নীতিতে বাধা।
তিন কূটনীতিক রয়টার্সকে জানান, কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটি থেকে কিছু আমেরিকান কর্মীকে বুধবার সন্ধ্যার মধ্যে সরে যেতে বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ভিসা আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের সময় বিদ্যমান আইনের অধীনে ভিসা প্রত্যাখ্যানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে চিঠিতে। আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে এ নির্দেশ কার্যকর হবে এবং অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়াকরণ পুনর্মূল্যায়ন না করা পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য অব্যাহত থাকবে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য ভয়াবহ পরিণতির বিষয়ে আমেরিকাকে সচেতন হতে হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা জানান, নিহতদের মধ্যে বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা রয়েছে। তবে পৃথকভাবে কতজন বিক্ষোভকারী বা কতজন নিরাপত্তা কর্মী মারা গেছে, তার কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য তিনি দেননি।