logo
প্রবাসের খবর

সৌদি আরবের কাছে ১০০ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির উদ্যোগ ট্রাম্পের

বিডিজেন ডেস্ক
বিডিজেন ডেস্ক২৫ এপ্রিল ২০২৫
Copied!
সৌদি আরবের কাছে ১০০ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির উদ্যোগ ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবকে ১০০ বিলিয়ন (১০ হাজার কোটি) ডলারের অস্ত্র প্যাকেজ বিক্রির প্রস্তাব দেবেন। মে মাসে সৌদি সফরের সময় তিনি এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করবেন বলে জানা গেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) ৬ সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই তথ্য জানিয়েছে। 

এর আগে, ট্রাম্পের পূর্বসূরি বাইডেন রিয়াদের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করার প্রচেষ্টা হাতে নেন। ওই বৃহত্তর চুক্তির অন্যতম শর্ত ছিল ইসরায়েলের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্ক স্বাভাবিক করা। তবে শেষ পর্যন্ত বাইডেনের ওই উদ্যোগ আলোর মুখ দেখেনি। 

বাইডেনের প্রস্তাবে চীনের কাছ থেকে অস্ত্র কেনা বন্ধ ও সৌদি আরবে চীনা বিনিয়োগে সীমাবদ্ধতা আরোপের বিনিময়ে যুব্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক অস্ত্র পেতে পারত সৌদি আরব। তবে ট্রাম্পের প্রস্তাবেও এ ধরনের শর্ত রয়েছে কি না, তা রয়টার্স জানতে পারেনি।

এ বিষয়ে জানতে হোয়াইট হাউস ও সৌদি সরকারের যোগাযোগ কার্যালয়ের কাছে মন্তব্য চাওয়া হলেও তারা তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা বলেন, 'প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বে সৌদি আরবের সঙ্গে আমাদের প্রতিরক্ষা বিষয়ক সম্পর্ক অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি শক্তিশালী। নিরাপত্তার বিষয়ে আমাদের পারস্পরিক সহযোগিতা এই অংশীদারত্বের এক গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ এবং আমরা সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা চাহিদা মেটাতে তাদের সঙ্গে কাজ করা অব্যাহত রাখব।'

প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, সৌদি আরবের কাছে অস্ত্র বিক্রি করলে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন নতুন চাকরি সৃষ্টি  হবে।

দুজন সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র নির্মাতা লকহিড মার্টিন কর্পোরেশন সি-১৩০ পরিবহন বিমানসহ বেশ কিছু আধুনিক অস্ত্র সরবরাহ করতে পারে। অপর এক সূত্র জানায়, পরিবহন বিমানের পাশাপাশি লকহিড ক্ষেপণাস্ত্র ও রাডারও দেবে। 

এই অস্ত্র প্যাকেজে আরটিএক্স কর্পোরেশনেরও (আগের নাম রেথিওন টেকনলজিস) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে। পাশাপাশি এতে বোয়িং করপোরেশন (বিএ.এন), নরথ্রপ গ্রুম্যান করপোরেশন (এনওসি.এন) ও জেনারেল অটোমিক্সও অবদান রাখবে বলে ৪ সূত্র জানায়।

এ বিষয়টির সংবেদনশীলতা বিচারে কোনো সূত্রই নাম প্রকাশ করতে রাজি হয়নি।

আরটিএক্স, নরথ্রপ ও জেনারেল অটোমিক্স এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকার করে। বোয়িং তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্যের অনুরোধে জবাব দেয়নি।

লকহিড মার্টিনের মুখপাত্র বলেন, বিদেশি শক্তির কাছে সামরিক উপকরণ বেচা-কেনার বিষয়টি এক সরকারের সঙ্গে অন্য সরকারের সরাসরি লেনদেন। এ ধরনের কোনো বিষয় সম্পর্কে তথ্য জানতে সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।

সূত্ররা জানায়, উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানের একাধিক কর্মকর্তা ট্রাম্পের সফরসঙ্গী হতে পারেন।

দীর্ঘদিন ধরেই সৌদি আরবকে অস্ত্র সরবরাহ করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র।

২০১৭ সালে ট্রাম্প রিয়াদের কাছে ১১০ বিলিয়ন ডলার মূল্যমানের অস্ত্র বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে ২০১৮ সাল নাগাদ মাত্র সাড়ে ১৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়।

ওই সময় সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যাকাণ্ডের আলোকে এসব চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস। 

২০২১ সালে বাইডেন প্রশাসনের আমলে কংগ্রেস খাসোগি হত্যাকাণ্ডের জেরে সৌদি আরবের কাছে অস্ত্র বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল সৌদি আরবকে ইয়েমেন যুদ্ধের তীব্রতা কমিয়ে আনতে বাধ্য করা। ওই যুদ্ধে অসংখ্য বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছিল। 

যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অস্ত্র বিক্রির বড় চুক্তিগুলো কংগ্রেসের সদস্যদের যাচাই-বাছাই ছাড়া বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।

২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর বৈশ্বিক তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হয়। যার ফলে, সৌদি আরবের প্রতি নমনীয় অবস্থানে যেতে বাধ্য হয় বাইডেন প্রশাসন।

২০২৪ সালে অস্ত্র বিক্রির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেন বাইডেন।

তিন সূত্র জানিয়েছে, লকহিডের এফ-৩৫ জেট বিমান কেনার ব্যাপারে বেশ কয়েক বছর ধরে আগ্রহ দেখিয়ে এসেছে সৌদি আরব। এ বিষয়টি ট্রাম্পের সফরের সময় আলোচিত হবে বলে তারা জানান। তবে এই সফরেই ওই বিমান কেনার চুক্তি চূড়ান্ত হবে বলে মনে করেন না তারা।

যুক্তরাষ্ট্র সব সময় নিশ্চয়তা দিয়ে এসেছে যে সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েল অন্য আরব দেশগুলোর চেয়ে বেশি আধুনিক ও উন্নত অস্ত্র পাবে। এ বিষয়টিকে 'কোয়ালিটেটিভ মিলিটারি এজ (কিউএমই)' বা 'গুণগত সামরিক সুবিধা' হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।

৯ বছর ধরে ইসরায়েলের কাছে এফ-৩৫ রয়েছে। তারা এই বিমান ব্যবহার করে বেশ কয়েকটি স্কোয়াড্রন তৈরি করেছে।

আরও দেখুন

আমিরাতে বিতাড়নের শিকার হচ্ছেন পাকিস্তানি শিয়ারা, জমানো অর্থ–লাগেজ কিছুই নিতে পারছেন না

আমিরাতে বিতাড়নের শিকার হচ্ছেন পাকিস্তানি শিয়ারা, জমানো অর্থ–লাগেজ কিছুই নিতে পারছেন না

পাকিস্তানের শিয়া সম্প্রদায়ের নেতারা বলছেন, যুদ্ধ শুরুর পর বিতাড়নের ঘটনা আরও বেড়েছে। এই সংঘাতের কারণে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বেড়েছে। বিশেষ করে ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

৪ দিন আগে

আমেরিকার গ্রিন কার্ড পেতে হলে ফিরতে হবে নিজ দেশে

আমেরিকার গ্রিন কার্ড পেতে হলে ফিরতে হবে নিজ দেশে

ইউএসসিআইএসের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, কোনো বিদেশি যদি সাময়িকভাবে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন এবং গ্রিন কার্ড পেতে চান, তবে তাকে অবশ্যই নিজ দেশে ফিরে গিয়ে আবেদন করতে হবে।

৬ দিন আগে

যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে আমিরাতের ভাবমূর্তি চ্যালেঞ্জের মুখে

যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে আমিরাতের ভাবমূর্তি চ্যালেঞ্জের মুখে

বিপুল নগদ অর্থের মজুত থাকায় যুদ্ধজনিত অর্থনৈতিক অস্থিরতায় এখন পর্যন্ত বড় ধরনের চাকরি হারানো বা বিদেশি ব্যবসার ব্যাপক প্রস্থান দেখা যায়নি। তবে অচলাবস্থা যত দীর্ঘ এবং স্বাভাবিক ব্যবসা-বাণিজ্য যত ব্যাহত হবে, আন্তর্জাতিক ব্যবসা ও বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ইউএইর ভাবমূর্তি তত বেশি ঝুঁকির মুখে পড়বে।

১০ দিন আগে

অস্ট্রেলিয়ায় স্ত্রী ও দুই প্রতিবন্ধী সন্তান হত্যার অভিযোগে বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

অস্ট্রেলিয়ায় স্ত্রী ও দুই প্রতিবন্ধী সন্তান হত্যার অভিযোগে বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের অ্যাকটিং সুপারিনটেনডেন্ট মাইকেল মরোনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, নিহতদের শরীরে ধারালো অস্ত্রের গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা এতটাই বিভৎস যে বিস্তারিত প্রকাশের যোগ্য নয়।

১১ দিন আগে