
বিডিজেন ডেস্ক

উচ্চমাধ্যমিকে থাকতে ২০২০ সালে দালালের মাধ্যমে সৌদি আরবে যান মো. শান্ত খান। তাঁর খরচ হয়েছিল ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। কথা ছিল সৌদি আরবে গিয়ে একটি ব্যাংকে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ করবেন। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখেন সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র।
শান্তকে প্রথমে একটি পেট্রলপাম্পে কাজ দেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে খেজুরবাগানে। মাসিক বেতন হিসেবে যে টাকা দেওয়ার কথা ছিল, তা-ও পেতেন না। যা আয় করতেন তা দিয়ে নিজেই চলতে পারতেন না। পরিশ্রমের কারণে দুই বছর না যেতেই অসুস্থ হয়ে পড়েন শান্ত। ২০২৩ সালের মাঝামাঝি কৌশল করে একপ্রকার পালিয়ে দেশে ফিরে আসেন তিনি।
শান্ত খানের বাড়ি খুলনার ফুলতলা উপজেলার জামিরা গ্রামে। শান্ত বলেন, সৌদি আরব যাওয়ার সময় তাঁর বাবা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকেও টাকা ধার করেছিলেন। এখনো সেই ঋণ ও ধারের টাকা শোধ হয়নি। বিদেশ থেকে ফিরে আসার পর সামাজিক ও মানসিকভাবে ব্যাপক হেনস্তার শিকার হয়েছেন তিনি।
ডুমুরিয়া উপজেলার ইসলাম হোসেনের গল্পটা আরও করুণ। তিনি গিয়েছিলেন ওমানে। সেখানে তাঁর যে বেতন ও কাজ দেওয়ার কথা ছিল, তা দেওয়া হয়নি। এমনকি ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা কাজ করিয়ে নেওয়া হয়েছে। কষ্ট হলেও মুখ বুজে সহ্য করে পাঁচ বছর টিকে ছিলেন। ২০২০ সালে করোনার সময় দেশে ফিরে আসেন। এরপর আর যেতে পারেননি।
প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশেই ছোটখাটো ব্যবসা শুরু করেছিলেন ইসলাম। সবজি চাষ, গরু-ছাগল ও মুরগি পালন করছিলেন। কিন্তু এবারের অতিবৃষ্টির ফলে জলাবদ্ধতায় তাঁর মুরগির খামারটি নষ্ট হয়ে গেছে। পানিতে ডুবে থাকায় গরু-ছাগল বিক্রি করে দিতে হয়েছে। এখন আবার বেকার হয়ে পড়েছেন তিনি।
ইসলাম হোসেন বলেন, ‘টাকা না থাকলে কেউ আপন হয় না—সেটা দেশে আসার পর বুঝেছি। আশপাশের মানুষগুলোও বেশ অচেনা মনে হতে থাকে। যদি কোনো ব্যবসা শুরু করতে না পারতাম তাহলে হয়তো এত দিন বেঁচে থাকতে পারতাম না।’
বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে খুলনা নগরের সিএসএস আভা সেন্টারে আয়োজিত এক কর্মশালায় নিজেদের প্রবাস থেকে ফেরার এসব গল্প শোনান শান্ত খান, ইসলাম হোসেনসহ অনেকে। ‘ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম’ ওই কর্মশালার আয়োজন করেছিল। কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিতান কুমার মণ্ডল। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার মেরিনা আক্তার ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনার উপপরিচালক কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন। সভাপতিত্ব করেন খুলনা জনশক্তি ও কর্মসংস্থান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. ইকবাল হোসেন।
বক্তারা বলেন, প্রবাসীরা বাংলাদেশের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি। কাজেই অভিবাসন খাতকে নিরাপদ করার পাশাপাশি বিদেশফেরত প্রবাসীদের সহায়তায় সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ নিতে হবে। যাঁরা বিদেশে যান তাঁদের যাওয়ার আগে সঠিক তথ্য যাচাই-বাছাই করে বিদেশে যেতে হবে। মূলত দালালের মাধ্যমে গেলে প্রবাসীরা বেশি প্রতারণার শিকার হন। অনেকে বিদেশে যাওয়ার সময় যে টাকার লেনদেন করেন, তার প্রমাণও রাখেন না। আর্থিক প্রতারণা রুখতে যেকোনো ধরনের লেনদেনের প্রমাণ রাখার পরামর্শ দেন বক্তারা।
সূত্র: প্রথম আলো অনলাইন

উচ্চমাধ্যমিকে থাকতে ২০২০ সালে দালালের মাধ্যমে সৌদি আরবে যান মো. শান্ত খান। তাঁর খরচ হয়েছিল ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। কথা ছিল সৌদি আরবে গিয়ে একটি ব্যাংকে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ করবেন। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখেন সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র।
শান্তকে প্রথমে একটি পেট্রলপাম্পে কাজ দেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে খেজুরবাগানে। মাসিক বেতন হিসেবে যে টাকা দেওয়ার কথা ছিল, তা-ও পেতেন না। যা আয় করতেন তা দিয়ে নিজেই চলতে পারতেন না। পরিশ্রমের কারণে দুই বছর না যেতেই অসুস্থ হয়ে পড়েন শান্ত। ২০২৩ সালের মাঝামাঝি কৌশল করে একপ্রকার পালিয়ে দেশে ফিরে আসেন তিনি।
শান্ত খানের বাড়ি খুলনার ফুলতলা উপজেলার জামিরা গ্রামে। শান্ত বলেন, সৌদি আরব যাওয়ার সময় তাঁর বাবা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকেও টাকা ধার করেছিলেন। এখনো সেই ঋণ ও ধারের টাকা শোধ হয়নি। বিদেশ থেকে ফিরে আসার পর সামাজিক ও মানসিকভাবে ব্যাপক হেনস্তার শিকার হয়েছেন তিনি।
ডুমুরিয়া উপজেলার ইসলাম হোসেনের গল্পটা আরও করুণ। তিনি গিয়েছিলেন ওমানে। সেখানে তাঁর যে বেতন ও কাজ দেওয়ার কথা ছিল, তা দেওয়া হয়নি। এমনকি ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা কাজ করিয়ে নেওয়া হয়েছে। কষ্ট হলেও মুখ বুজে সহ্য করে পাঁচ বছর টিকে ছিলেন। ২০২০ সালে করোনার সময় দেশে ফিরে আসেন। এরপর আর যেতে পারেননি।
প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশেই ছোটখাটো ব্যবসা শুরু করেছিলেন ইসলাম। সবজি চাষ, গরু-ছাগল ও মুরগি পালন করছিলেন। কিন্তু এবারের অতিবৃষ্টির ফলে জলাবদ্ধতায় তাঁর মুরগির খামারটি নষ্ট হয়ে গেছে। পানিতে ডুবে থাকায় গরু-ছাগল বিক্রি করে দিতে হয়েছে। এখন আবার বেকার হয়ে পড়েছেন তিনি।
ইসলাম হোসেন বলেন, ‘টাকা না থাকলে কেউ আপন হয় না—সেটা দেশে আসার পর বুঝেছি। আশপাশের মানুষগুলোও বেশ অচেনা মনে হতে থাকে। যদি কোনো ব্যবসা শুরু করতে না পারতাম তাহলে হয়তো এত দিন বেঁচে থাকতে পারতাম না।’
বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে খুলনা নগরের সিএসএস আভা সেন্টারে আয়োজিত এক কর্মশালায় নিজেদের প্রবাস থেকে ফেরার এসব গল্প শোনান শান্ত খান, ইসলাম হোসেনসহ অনেকে। ‘ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম’ ওই কর্মশালার আয়োজন করেছিল। কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিতান কুমার মণ্ডল। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার মেরিনা আক্তার ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনার উপপরিচালক কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন। সভাপতিত্ব করেন খুলনা জনশক্তি ও কর্মসংস্থান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. ইকবাল হোসেন।
বক্তারা বলেন, প্রবাসীরা বাংলাদেশের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি। কাজেই অভিবাসন খাতকে নিরাপদ করার পাশাপাশি বিদেশফেরত প্রবাসীদের সহায়তায় সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ নিতে হবে। যাঁরা বিদেশে যান তাঁদের যাওয়ার আগে সঠিক তথ্য যাচাই-বাছাই করে বিদেশে যেতে হবে। মূলত দালালের মাধ্যমে গেলে প্রবাসীরা বেশি প্রতারণার শিকার হন। অনেকে বিদেশে যাওয়ার সময় যে টাকার লেনদেন করেন, তার প্রমাণও রাখেন না। আর্থিক প্রতারণা রুখতে যেকোনো ধরনের লেনদেনের প্রমাণ রাখার পরামর্শ দেন বক্তারা।
সূত্র: প্রথম আলো অনলাইন
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ফিরে আসা বাংলাদেশিদের বেশির ভাগই সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার উদ্দেশ্যে মানবপাচারকারীদের প্ররোচনা ও সহযোগিতায় লিবিয়ায় অনুপ্রবেশ করেছিলেন। তাদের অনেকেই সেখানে বিভিন্ন সময়ে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তিন দিনব্যাপী এই আয়োজনে বিনিয়োগ, স্টার্টআপ, স্বাস্থ্যসেবা উদ্ভাবন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ফ্যাশন, সংগীত, গণমাধ্যম, খাদ্য, শিল্পকলা এবং সাংস্কৃতিক কূটনীতি বিষয়ক বিভিন্ন প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের ২০০৩ সালের ইউনেসকো কনভেনশনের মূলনীতি, নৈতিক নথিভুক্তকরণ প্রক্রিয়া এবং অবাধ, পূর্বানুমোদিত ও অবহিত সম্মতি সম্পর্কে ধারণা প্রদান করা হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রত্যাবাসিতদের বেশির ভাগই মানবপাচারকারীদের প্ররোচনা ও সহযোগিতায় সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার উদ্দেশ্যে লিবিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন। তাদের অনেকেই সেখানে বিভিন্ন সময়ে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।