
প্রতিবেদক, বিডিজেন

আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসনবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে আরও ২৯ বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে দেশটি।
গতকাল শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের ভাড়া করা একটি বিশেষ ফ্লাইটে তারা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। এ নিয়ে এ পর্যন্ত আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত আসা বাংলাদেশির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩২২ জনে।
ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিমানবন্দরে পৌঁছার পর প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক ও এভিয়েশন সিকিউরিটির (এভসেক) সহায়তায় ফেরত আসা বাংলাদেশিদের জরুরি সহায়তা ও বাড়ি যাওয়ার জন্য পরিবহন সুবিধা প্রদান করে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ফেরত আসা ২৯ জনের মধ্যে নোয়াখালীর ১৪ জন, ঢাকার ৭ জন, কুমিল্লার ২ জন, মুন্সীগঞ্জের ৩ জন এবং ফেনী, মৌলভীবাজার, সিলেট ও মাদারীপুর জেলার একজন করে রয়েছেন।
ফেরত আসা ব্যক্তিদের অধিকাংশই প্রথমে বৈধভাবে ব্রাজিলে যান। পরে সেখান থেকে মেক্সিকো হয়ে অবৈধ পথে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতে তাদের জনপ্রতি প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ লাখ টাকা, কারও ক্ষেত্রে ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়েছে। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর তারা রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় দেশটির প্রশাসন তাদের প্রত্যাবাসনের সিদ্ধান্ত নেয়।
ফেরত আসাদের একজন নোয়াখালী জেলার সাইফুল ইসলাম। তিনি জানান, ২০২৪ সালে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো ছাড়পত্র নিয়ে ব্রাজিল যান। সেখান থেকে তিনি দালালের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ পাড়ি দিয়ে মেক্সিকো হয়ে আমেরিকা প্রবেশ করতে গিয়ে গ্রেপ্তার হন।
ফেরত আসা দিয়াদ চৌধুরী জানান, তিনি ২২ লাখ টাকা খরচ করে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর ছাড়পত্র নিয়ে ২০২৪ সালের শেষের দিকে ব্রাজিল যান। সেখান থেকে মেক্সিকো হয়ে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। দীর্ঘ ১ বছর জেলে থেকে আজ তিনিও ফিরেছেন।
মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার আব্দুল সবুর জানান, তিনি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয় করে ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর ভিজিট ভিসায় ব্রাজিলে যান। সেখান থেকে একাধিক দেশ হয়ে ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছান। আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে তাকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর ছাড়পত্র নিয়ে ২০২৫ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৪১০ জন বাংলাদেশি ব্রাজিলে গেছেন। তাদের মধ্যে নোয়াখালীর ৯৯০ জন। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের একটি বড় অংশ মেক্সিকো হয়ে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করেছেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের একাধিক দফায় ফেরত পাঠানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, বাংলাদেশ থেকে বিএমইটির ছাড়পত্র নিয়ে বৈধভাবে ব্রাজিলে গিয়ে সেখান থেকে নানা দেশ হয়ে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে পাচারের ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। এই যে বিএমইটি শত শত কর্মীকে ব্রাজিলে পাঠানোর অনুমোদন দিচ্ছে, তারা প্রকৃতপক্ষে সেখানে কর্মসংস্থানের জন্য যাচ্ছেন, নাকি আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করছেন—সে বিষয়ে কার্যকর নজরদারি ছিল কি না, সেটি খতিয়ে দেখা জরুরি। এখানে সংশ্লিষ্ট এজেন্সি ও অনুমোদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা প্রয়োজন। নতুন করে ব্রাজিলে কর্মী পাঠানোর অনুমতি দেওয়ার আগে সরকারকে আরও সতর্ক হতে হবে।

আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসনবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে আরও ২৯ বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে দেশটি।
গতকাল শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের ভাড়া করা একটি বিশেষ ফ্লাইটে তারা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। এ নিয়ে এ পর্যন্ত আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত আসা বাংলাদেশির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩২২ জনে।
ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিমানবন্দরে পৌঁছার পর প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক ও এভিয়েশন সিকিউরিটির (এভসেক) সহায়তায় ফেরত আসা বাংলাদেশিদের জরুরি সহায়তা ও বাড়ি যাওয়ার জন্য পরিবহন সুবিধা প্রদান করে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ফেরত আসা ২৯ জনের মধ্যে নোয়াখালীর ১৪ জন, ঢাকার ৭ জন, কুমিল্লার ২ জন, মুন্সীগঞ্জের ৩ জন এবং ফেনী, মৌলভীবাজার, সিলেট ও মাদারীপুর জেলার একজন করে রয়েছেন।
ফেরত আসা ব্যক্তিদের অধিকাংশই প্রথমে বৈধভাবে ব্রাজিলে যান। পরে সেখান থেকে মেক্সিকো হয়ে অবৈধ পথে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতে তাদের জনপ্রতি প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ লাখ টাকা, কারও ক্ষেত্রে ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়েছে। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর তারা রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় দেশটির প্রশাসন তাদের প্রত্যাবাসনের সিদ্ধান্ত নেয়।
ফেরত আসাদের একজন নোয়াখালী জেলার সাইফুল ইসলাম। তিনি জানান, ২০২৪ সালে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো ছাড়পত্র নিয়ে ব্রাজিল যান। সেখান থেকে তিনি দালালের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ পাড়ি দিয়ে মেক্সিকো হয়ে আমেরিকা প্রবেশ করতে গিয়ে গ্রেপ্তার হন।
ফেরত আসা দিয়াদ চৌধুরী জানান, তিনি ২২ লাখ টাকা খরচ করে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর ছাড়পত্র নিয়ে ২০২৪ সালের শেষের দিকে ব্রাজিল যান। সেখান থেকে মেক্সিকো হয়ে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। দীর্ঘ ১ বছর জেলে থেকে আজ তিনিও ফিরেছেন।
মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার আব্দুল সবুর জানান, তিনি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয় করে ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর ভিজিট ভিসায় ব্রাজিলে যান। সেখান থেকে একাধিক দেশ হয়ে ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছান। আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে তাকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর ছাড়পত্র নিয়ে ২০২৫ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৪১০ জন বাংলাদেশি ব্রাজিলে গেছেন। তাদের মধ্যে নোয়াখালীর ৯৯০ জন। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের একটি বড় অংশ মেক্সিকো হয়ে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করেছেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের একাধিক দফায় ফেরত পাঠানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, বাংলাদেশ থেকে বিএমইটির ছাড়পত্র নিয়ে বৈধভাবে ব্রাজিলে গিয়ে সেখান থেকে নানা দেশ হয়ে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে পাচারের ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। এই যে বিএমইটি শত শত কর্মীকে ব্রাজিলে পাঠানোর অনুমোদন দিচ্ছে, তারা প্রকৃতপক্ষে সেখানে কর্মসংস্থানের জন্য যাচ্ছেন, নাকি আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করছেন—সে বিষয়ে কার্যকর নজরদারি ছিল কি না, সেটি খতিয়ে দেখা জরুরি। এখানে সংশ্লিষ্ট এজেন্সি ও অনুমোদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা প্রয়োজন। নতুন করে ব্রাজিলে কর্মী পাঠানোর অনুমতি দেওয়ার আগে সরকারকে আরও সতর্ক হতে হবে।
বৈঠকে লিবিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নমূলক ও অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পগুলোতে আরও বেশিসংখ্যক দক্ষ বাংলাদেশি জনশক্তির অংশগ্রহণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টি ও বিদ্যমান শ্রমবাজার সম্প্রসারণে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিভিন্ন ধাপে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত ১৯১ জনের কাছে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ জারি করা হয়েছে। আরও ২২ জনের কাছে নোটিশ জারির প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
নুরুল হক নুর বলেন, “এক সময় বিদেশে নির্যাতনের শিকার হলে প্রবাসী বাংলাদেশিরা প্রতিকার চাইতে পারতেন না। তবে বর্তমানে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চুক্তির ফলে নির্যাতনের শিকার কর্মীদের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি ও আইনি প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।”