
প্রতিবেদক, বিডিজেন

উপসাগরীয় একটি দেশে যাওয়ার জন্য প্রথমে সানলাইট নামের মেডিকেল সেন্টারে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান মিরাজ হোসেন (২৮)। সেখানে তাকে ‘আনফিট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। পরে দালালের মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকায় চুক্তি করে ‘ফিট’ সনদ নেন। সরকারি নির্ধারিত ফি ১০ হাজার টাকা হলেও ‘ফিট’ সনদ পেতে তিনি ২০ হাজার টাকায় চুক্তি করেছিলেন। মিরাজ একা নন, অতিরিক্ত টাকা দিয়ে এভাবে অনেকের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ‘ফিট’ সার্টিফিকেট নিতে হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, উপসাগরীয় দেশগুলোতে কর্মী হিসেবে যাওয়ার জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষায় নির্ধারিত ফির চেয়ে বেশি টাকা আদায় করছে মেডিকেল সেন্টারগুলো। ফি ১০ হাজার টাকা হলেও অনেক সময় বিদেশগামী কর্মীদের ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হয় ‘ফিট’ সনদ পেতে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক রিক্রুটিং এজেন্সির পরিচালক বলেন, এটার দোষ শুধু মেডিকেলের নয়। বরং বিদেশগামীরা স্বাস্থ্যগত অনেক ছোট–বড় সমস্যা এড়াতেও দালালের মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে সার্টিফিকেট নেন। ছোটখাটো স্বাস্থ্য সমস্যাকে কেন্দ্র করে বিদেশগামীদের কাছ থেকে গলা কাটা ফি আদায় করছে একদল অসাধু চক্র।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানা যায়, স্বাস্থ্য পরীক্ষায় দালাল সিন্ডিকেট যুক্ত হওয়ার মূল কারণ গালফ হেলথ কাউন্সিলের (জিএইচসি) অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারের সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যাওয়া। বিদেশগামী কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য প্রথমে এই মেডিকেল সেন্টারগুলোকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে হয়। এরপর নিতে হয় জিএইচসির অনুমোদন।
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব গালফ মেডিকেল সেন্টারসের (বিএজিএমসি) তথ্যমতে, বাংলাদেশে জিএইচসি অনুমোদিত সেন্টারের সংখ্যা ২০১৭ সালে ছিল মাত্র ২৬টি। বর্তমানে তা বেড়ে হয়েছে ২৭৮টি।
এ বিষয়ে বিএজিএমসির প্রেসিডেন্ট নোমান চৌধুরী বলেন, “আমারা বহুবার অতিরিক্ত মেডিকেল সেন্টার অনুমদোনের বিষয়ে জিএইচসিকে বলেছি। কিন্তু তারা আমাদের কথা শোনে না। এর একটা অভ্যন্তরীণ কারণও রয়েছে সেটি হলো একজন ব্যক্তি মেডিকেল করার জন্য রেজিস্ট্রেশন করলে তারা ১০ ডলার পায়। অন্য দিকে মেডিকেল সেন্টার অনেক বেশি হওয়ায় আমাদের দেশের মানুষেরা প্রি মেডিকেল করেন। এটায় ফিট হলে সার্টিফিকেট নেন আর না হলে তখন অনেকে বিভিন্ন মাধ্যম ধরেন। এসময় সবচেয়ে বেশি ফাঁদে ফেলে মেডিকেল সেন্টারের দালাল চক্র। তারা নানাভাবে বিদেশগামীদের থেকে বেশি অর্থ আদায় করে।”
যেভাবে বাড়তি অর্থ আদায় করা হয়
সৌদি আরব, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও ওমানগামী কর্মীদের জিএইচসির প্ল্যাটফর্মে ১০ ডলার ফি দিয়ে নিবন্ধন করতে হয়। প্ল্যাটফর্মটি একটি মেডিকেল সেন্টার নির্ধারণ করে দেয়। তারপর শুরু হয় অসাধু চক্রের কার্যকলাপ।
ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফি আদায়ের অভিনব কৌশল হলো–শুরুতে বেশির ভাগ সেন্টার প্রথমে প্রার্থীকে অযোগ্য ঘোষণা করে। তারপর যোগ্য হিসেবে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য ঘুষ দাবি করা হয়। এমনকি প্রকৃত অযোগ্যরাও মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে যোগ্য হিসেবে সার্টিফিকেট পাচ্ছে।
জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মে পর্যন্ত চারটি প্রধান উপসাগরীয় দেশ–সৌদি আরব, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতে ৩২ লাখ ৪১ হাজার ২১০ জন বাংলাদেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন।
কুমিল্লার আরিফ ইসলাম থাকেন সৌদি আরবে। তিনি বিডিজেনকে বলেন, “আমি বিদেশে আসার আগে একটু স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ছিলাম। তাই ৩০ হাজার টাকা চুক্তি করে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ফিট সার্টিফিকেট নিয়েছিলাম।”
এ ছাড়া, এসবিএস পজেটিভ থাকা এক প্রবাসী বলেন, “আমার এই সমস্যাসহ মেডিকেল করলে আনফিট হয়ে যেতাম। তাই ৫০ হাজার টাকায় চুক্তি করে মেডিকেল করি এবং ফিট সার্টিফিকেট পেয়েছি।”
রাজধানীর এক রিক্রুটিং এজেন্সির প্রধান নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “গালফ কান্ট্রিতে যাওয়ার জন্য কর্মীদের একটা বড় অংশ অতিরিক্ত টাকায় মেডিকেল ফিট সার্টিফিকেট নেন। এর মূল কারণ হলো–তাদের মেডিকেল সেন্টারে কেউ একবার অনফিট হলে আর কখনো ওসব দেশে যাওয়ার অনুমতি পাবে না। এই ভয় থেকে অনেকে ছোট–বড় সমস্যা এড়াতে অসাধু চক্রের আশ্রয়ে মেডিকেল সার্টিফিকেট নিচ্ছেন।”
এ বিষয়ে সম্প্রতি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ব্যাপক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অনিয়মে জড়িত মেডিকেল সেন্টারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জিএইচসিকে চিঠি দিয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হয় মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শেফায়েত হোসেনের সঙ্গে।
তিনি বিডিজেনকে বলেন, “এসব বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার ছাড়া আর কারও কথা বলার অনুমতি নেই। তিনিই এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে পারেন।”

উপসাগরীয় একটি দেশে যাওয়ার জন্য প্রথমে সানলাইট নামের মেডিকেল সেন্টারে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান মিরাজ হোসেন (২৮)। সেখানে তাকে ‘আনফিট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। পরে দালালের মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকায় চুক্তি করে ‘ফিট’ সনদ নেন। সরকারি নির্ধারিত ফি ১০ হাজার টাকা হলেও ‘ফিট’ সনদ পেতে তিনি ২০ হাজার টাকায় চুক্তি করেছিলেন। মিরাজ একা নন, অতিরিক্ত টাকা দিয়ে এভাবে অনেকের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ‘ফিট’ সার্টিফিকেট নিতে হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, উপসাগরীয় দেশগুলোতে কর্মী হিসেবে যাওয়ার জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষায় নির্ধারিত ফির চেয়ে বেশি টাকা আদায় করছে মেডিকেল সেন্টারগুলো। ফি ১০ হাজার টাকা হলেও অনেক সময় বিদেশগামী কর্মীদের ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হয় ‘ফিট’ সনদ পেতে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক রিক্রুটিং এজেন্সির পরিচালক বলেন, এটার দোষ শুধু মেডিকেলের নয়। বরং বিদেশগামীরা স্বাস্থ্যগত অনেক ছোট–বড় সমস্যা এড়াতেও দালালের মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে সার্টিফিকেট নেন। ছোটখাটো স্বাস্থ্য সমস্যাকে কেন্দ্র করে বিদেশগামীদের কাছ থেকে গলা কাটা ফি আদায় করছে একদল অসাধু চক্র।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানা যায়, স্বাস্থ্য পরীক্ষায় দালাল সিন্ডিকেট যুক্ত হওয়ার মূল কারণ গালফ হেলথ কাউন্সিলের (জিএইচসি) অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারের সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যাওয়া। বিদেশগামী কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য প্রথমে এই মেডিকেল সেন্টারগুলোকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে হয়। এরপর নিতে হয় জিএইচসির অনুমোদন।
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব গালফ মেডিকেল সেন্টারসের (বিএজিএমসি) তথ্যমতে, বাংলাদেশে জিএইচসি অনুমোদিত সেন্টারের সংখ্যা ২০১৭ সালে ছিল মাত্র ২৬টি। বর্তমানে তা বেড়ে হয়েছে ২৭৮টি।
এ বিষয়ে বিএজিএমসির প্রেসিডেন্ট নোমান চৌধুরী বলেন, “আমারা বহুবার অতিরিক্ত মেডিকেল সেন্টার অনুমদোনের বিষয়ে জিএইচসিকে বলেছি। কিন্তু তারা আমাদের কথা শোনে না। এর একটা অভ্যন্তরীণ কারণও রয়েছে সেটি হলো একজন ব্যক্তি মেডিকেল করার জন্য রেজিস্ট্রেশন করলে তারা ১০ ডলার পায়। অন্য দিকে মেডিকেল সেন্টার অনেক বেশি হওয়ায় আমাদের দেশের মানুষেরা প্রি মেডিকেল করেন। এটায় ফিট হলে সার্টিফিকেট নেন আর না হলে তখন অনেকে বিভিন্ন মাধ্যম ধরেন। এসময় সবচেয়ে বেশি ফাঁদে ফেলে মেডিকেল সেন্টারের দালাল চক্র। তারা নানাভাবে বিদেশগামীদের থেকে বেশি অর্থ আদায় করে।”
যেভাবে বাড়তি অর্থ আদায় করা হয়
সৌদি আরব, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও ওমানগামী কর্মীদের জিএইচসির প্ল্যাটফর্মে ১০ ডলার ফি দিয়ে নিবন্ধন করতে হয়। প্ল্যাটফর্মটি একটি মেডিকেল সেন্টার নির্ধারণ করে দেয়। তারপর শুরু হয় অসাধু চক্রের কার্যকলাপ।
ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফি আদায়ের অভিনব কৌশল হলো–শুরুতে বেশির ভাগ সেন্টার প্রথমে প্রার্থীকে অযোগ্য ঘোষণা করে। তারপর যোগ্য হিসেবে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য ঘুষ দাবি করা হয়। এমনকি প্রকৃত অযোগ্যরাও মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে যোগ্য হিসেবে সার্টিফিকেট পাচ্ছে।
জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মে পর্যন্ত চারটি প্রধান উপসাগরীয় দেশ–সৌদি আরব, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতে ৩২ লাখ ৪১ হাজার ২১০ জন বাংলাদেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন।
কুমিল্লার আরিফ ইসলাম থাকেন সৌদি আরবে। তিনি বিডিজেনকে বলেন, “আমি বিদেশে আসার আগে একটু স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ছিলাম। তাই ৩০ হাজার টাকা চুক্তি করে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ফিট সার্টিফিকেট নিয়েছিলাম।”
এ ছাড়া, এসবিএস পজেটিভ থাকা এক প্রবাসী বলেন, “আমার এই সমস্যাসহ মেডিকেল করলে আনফিট হয়ে যেতাম। তাই ৫০ হাজার টাকায় চুক্তি করে মেডিকেল করি এবং ফিট সার্টিফিকেট পেয়েছি।”
রাজধানীর এক রিক্রুটিং এজেন্সির প্রধান নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “গালফ কান্ট্রিতে যাওয়ার জন্য কর্মীদের একটা বড় অংশ অতিরিক্ত টাকায় মেডিকেল ফিট সার্টিফিকেট নেন। এর মূল কারণ হলো–তাদের মেডিকেল সেন্টারে কেউ একবার অনফিট হলে আর কখনো ওসব দেশে যাওয়ার অনুমতি পাবে না। এই ভয় থেকে অনেকে ছোট–বড় সমস্যা এড়াতে অসাধু চক্রের আশ্রয়ে মেডিকেল সার্টিফিকেট নিচ্ছেন।”
এ বিষয়ে সম্প্রতি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ব্যাপক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অনিয়মে জড়িত মেডিকেল সেন্টারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জিএইচসিকে চিঠি দিয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হয় মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শেফায়েত হোসেনের সঙ্গে।
তিনি বিডিজেনকে বলেন, “এসব বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার ছাড়া আর কারও কথা বলার অনুমতি নেই। তিনিই এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে পারেন।”
মন্ত্রণালয় জানায়, ড্রোন হামলার সময় বিস্ফোরণে একজন প্রবাসীর হাঁটুতে গুরুতর আঘাত লেগেছে এবং বাকি তিনজন কাচের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে জখম হয়েছেন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ফেরত আসা ব্যক্তিদের অধিকাংশই প্রথমে বৈধভাবে ব্রাজিলে যান। পরে সেখান থেকে মেক্সিকো হয়ে অবৈধ পথে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতে তাদের জনপ্রতি প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ লাখ টাকা, কারও ক্ষেত্রে ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়েছে।
নির্ধারিত ফ্লাইটসূচির চার ঘণ্টা আগে যাত্রীদের বিমানবন্দরে উপস্থিত হওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। পরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের চেকইন কাউন্টার থেকে বোর্ডিং পাস সংগ্রহ করবেন তারা।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম জানান, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের সব ফ্লাইট আপাতত বাতিল রাখা হয়েছে।