
প্রতিবেদক, বিডিজেন
গত এক বছরে প্রবাসীরা দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ৪ লাখ কোটি টাকারও (৩২ দশমিক ৮২ বিলিয়ন ডলার) বেশি। কিন্তু ২০২৫–২৬ অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেটে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জন্য মাত্র ৮৫৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর আগের বছর বাজেটে বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ১৪০ কোটি টাকা। যেখানে অর্থনীতি বিষয়ক শ্বেতপত্রে অভিবাসন খাতে বাজেট বরাদ্দ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়, সেখানে বাজেটে বরাদ্দ আগের তুলনায় কমিয়ে দেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।
এসব কথা বলেছেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্ট রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ার ড. তাসনিম সিদ্দিকী।
আজ বুধবার (৭ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন এসব কথা বলেন তিনি।
অভিবাসন প্রক্রিয়ায় সুশাসনের প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নীতি ও প্রশাসনিক সংস্কার প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, আমাদের দেশ থেকে বিদেশ যান মূলত অদক্ষ ও আধাদক্ষ কর্মী। কিন্তু দক্ষতা বাড়ানোর জন্য কাজ হচ্ছে না। এটির জন্য দায়ী বাজেট সমস্যা। আমরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছি, মোট বাজেটের এক শতাংশ বাজেট এই খাতে দিতে হবে। তাহলে এই খাতের উন্নয়ন করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ সেন্টারে অর্ধেকসংখ্যক প্রশিক্ষক নেই। এ ছাড়া. আমাদের কারিগরি স্কুল নিয়ে কোনো ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারিনি। ফলে দক্ষতা বাড়িয়ে নিরাপদ অভিবাসনের কাজ হচ্ছে না।
তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন আমাদের দেশের সঙ্গে অন্য দেশের কর্মী নেওয়ার চুক্তি হয়নি। বর্তমান সরকার অবশ্য জাপানসহ একাধিক দেশের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। তবে জাপানে যে পরিমাণ কর্মী যাওয়ার কথা ছিল সেটা হচ্ছে না। কারণ আমরা দক্ষ জনবল তৈরি করতে পারছি না।
অন্যদিকে প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল বিদেশে বসে ভোট প্রদানের সুযোগ। সেটি এই সরকার করতে পেরেছে।
রোহিঙ্গাদের বিষয় আরও জটিল হয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি দেশের জন্য জটিল হতে যাচ্ছে। তাদের সহায়তার জন্য সার্বিকভাবে দাতার সংখ্যা কমে গেছে। এতে শিশু ও নারীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। দ্রুত এই ব্যাপারে কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
নতুন শ্রমবাজার সন্ধান না করার বিষয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নে তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, আসলে নতুন শ্রমবাজার খোঁজার চেয়ে জরুরি হলো কর্মীদের দক্ষতা বাড়ানো। এতে বিভিন্ন দেশের শ্রমবাজার বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে আগ্রহী হবে।
সংবাদ সম্মেলনে তাসনিম সিদ্দিকী অভিবাসী খাতের উন্নয়নে রামরুর কিছু প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন।
প্রস্তাবনায় বলা হয়, বিএমইটিকে একাধিক পরিদপ্তরবিশিষ্ট একটি অধিদপ্তরে রূপান্তরিত করা; অভিবাসন পরিচালনা সংক্রান্ত জ্ঞান সংরক্ষণ ও সেবার মানোন্নয়নে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জন্য পৃথক ক্যাডার সার্ভিস চালু করা; ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের তহবিলের অর্থ শুধুমাত্র অভিবাসীদের প্রত্যক্ষ সেবাদানে ব্যবহার করা এবং কল্যাণ বোর্ড পরিচালনার জন্য জাতীয় বাজেটে পৃথক বরাদ্দ রাখা প্রয়োজন।
এ ছাড়া, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনার মানোন্নয়নে অভিজ্ঞ ব্যাংকারদের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগের পূর্ববর্তী ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা; স্বার্থের সংঘাত এড়াতে সংসদ সদস্য থাকাকালে তার নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স স্থগিত করা।
সংবাদ সম্মেলনে তাসনীম সিদ্দিকী একটি জরিপের তথ্য তুলে ধরেন। জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মোট ১১ লাখ ৩০ হাজার ৭৫৭ জন পুরুষ ও নারী কাজের জন্য বিদেশে গেছেন। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ১০ লাখ ১১ হাজার ৯৬৯ জন। জরিপ অনুযায়ী ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালের অভিবাসীর সংখ্যা প্রায় ১২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আলোকচিত্রী ড. শহিদুল আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্র বিজ্ঞানের সহযোগী অধ্যাপক মো. রাশেদ আলম, রামরুর সিনিয়র কমিউনিকেশন অফিসার মো. পারভেজ আলম ও প্রোগ্রাম ডিরেক্টর মেরিনা সুলতানা প্রমুখ।
গত এক বছরে প্রবাসীরা দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ৪ লাখ কোটি টাকারও (৩২ দশমিক ৮২ বিলিয়ন ডলার) বেশি। কিন্তু ২০২৫–২৬ অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেটে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জন্য মাত্র ৮৫৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর আগের বছর বাজেটে বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ১৪০ কোটি টাকা। যেখানে অর্থনীতি বিষয়ক শ্বেতপত্রে অভিবাসন খাতে বাজেট বরাদ্দ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়, সেখানে বাজেটে বরাদ্দ আগের তুলনায় কমিয়ে দেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।
এসব কথা বলেছেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্ট রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ার ড. তাসনিম সিদ্দিকী।
আজ বুধবার (৭ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন এসব কথা বলেন তিনি।
অভিবাসন প্রক্রিয়ায় সুশাসনের প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নীতি ও প্রশাসনিক সংস্কার প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, আমাদের দেশ থেকে বিদেশ যান মূলত অদক্ষ ও আধাদক্ষ কর্মী। কিন্তু দক্ষতা বাড়ানোর জন্য কাজ হচ্ছে না। এটির জন্য দায়ী বাজেট সমস্যা। আমরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছি, মোট বাজেটের এক শতাংশ বাজেট এই খাতে দিতে হবে। তাহলে এই খাতের উন্নয়ন করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ সেন্টারে অর্ধেকসংখ্যক প্রশিক্ষক নেই। এ ছাড়া. আমাদের কারিগরি স্কুল নিয়ে কোনো ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারিনি। ফলে দক্ষতা বাড়িয়ে নিরাপদ অভিবাসনের কাজ হচ্ছে না।
তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন আমাদের দেশের সঙ্গে অন্য দেশের কর্মী নেওয়ার চুক্তি হয়নি। বর্তমান সরকার অবশ্য জাপানসহ একাধিক দেশের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। তবে জাপানে যে পরিমাণ কর্মী যাওয়ার কথা ছিল সেটা হচ্ছে না। কারণ আমরা দক্ষ জনবল তৈরি করতে পারছি না।
অন্যদিকে প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল বিদেশে বসে ভোট প্রদানের সুযোগ। সেটি এই সরকার করতে পেরেছে।
রোহিঙ্গাদের বিষয় আরও জটিল হয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি দেশের জন্য জটিল হতে যাচ্ছে। তাদের সহায়তার জন্য সার্বিকভাবে দাতার সংখ্যা কমে গেছে। এতে শিশু ও নারীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। দ্রুত এই ব্যাপারে কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
নতুন শ্রমবাজার সন্ধান না করার বিষয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নে তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, আসলে নতুন শ্রমবাজার খোঁজার চেয়ে জরুরি হলো কর্মীদের দক্ষতা বাড়ানো। এতে বিভিন্ন দেশের শ্রমবাজার বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে আগ্রহী হবে।
সংবাদ সম্মেলনে তাসনিম সিদ্দিকী অভিবাসী খাতের উন্নয়নে রামরুর কিছু প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন।
প্রস্তাবনায় বলা হয়, বিএমইটিকে একাধিক পরিদপ্তরবিশিষ্ট একটি অধিদপ্তরে রূপান্তরিত করা; অভিবাসন পরিচালনা সংক্রান্ত জ্ঞান সংরক্ষণ ও সেবার মানোন্নয়নে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জন্য পৃথক ক্যাডার সার্ভিস চালু করা; ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের তহবিলের অর্থ শুধুমাত্র অভিবাসীদের প্রত্যক্ষ সেবাদানে ব্যবহার করা এবং কল্যাণ বোর্ড পরিচালনার জন্য জাতীয় বাজেটে পৃথক বরাদ্দ রাখা প্রয়োজন।
এ ছাড়া, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনার মানোন্নয়নে অভিজ্ঞ ব্যাংকারদের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগের পূর্ববর্তী ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা; স্বার্থের সংঘাত এড়াতে সংসদ সদস্য থাকাকালে তার নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স স্থগিত করা।
সংবাদ সম্মেলনে তাসনীম সিদ্দিকী একটি জরিপের তথ্য তুলে ধরেন। জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মোট ১১ লাখ ৩০ হাজার ৭৫৭ জন পুরুষ ও নারী কাজের জন্য বিদেশে গেছেন। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ১০ লাখ ১১ হাজার ৯৬৯ জন। জরিপ অনুযায়ী ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালের অভিবাসীর সংখ্যা প্রায় ১২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আলোকচিত্রী ড. শহিদুল আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্র বিজ্ঞানের সহযোগী অধ্যাপক মো. রাশেদ আলম, রামরুর সিনিয়র কমিউনিকেশন অফিসার মো. পারভেজ আলম ও প্রোগ্রাম ডিরেক্টর মেরিনা সুলতানা প্রমুখ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৫ সালের ইদ আল ইতিহাদ উদ্যাপনের অংশ হিসেবে দেশটির শাসকেরা এ ক্ষমার ঘোষণা দেন। এ সময় বিভিন্ন দেশের হাজারো বন্দিকেও ক্ষমার আওতায় আনা হয়। প্রতি বছর জাতীয় দিবস ও ঈদসহ গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ও ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে আমিরাতের শাসকেরা দণ্ডপ্রাপ্তদের রাজকীয় ক্ষমা দিয়ে থাকেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে ভুয়া খবরের ‘বন্যা ও পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি’ ছড়ানো হয়েছে। তবে অন্তর্বর্তী সরকার আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রতিশ্রুতিতে অটল। অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণা শেষে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে।
২০২৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তিউনিশিয়া উপকূলে পৌঁছানোর আগেই নৌকাটি ডুবে গেলে ৮ বাংলাদেশি নাগরিক মারা যান। তারা হলেন সজল বৈরাগী, মামুন শেখ, নয়ন বিশ্বাস, কাজী সজিব, কায়সার খলিফা, মো. রিফাত শেখ, রাসেল শেখ এবং ইমরুল কায়েস আপন।
মধ্যপ্রাচ্যগামী বাংলাদেশি কর্মীদের ভিসা-সংক্রান্ত প্রতারণা থেকে সুরক্ষা দেওয়া এবং নিরাপদ ও স্বচ্ছ অভিবাসন নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য। সেবাটি এরই মধ্যে চালু হয়েছে এবং ১৬৭৬৮ নম্বরে ফোন করে এই সেবা পাওয়া যাচ্ছে।