
নিমাই সরকার

হঠাৎ আলোর ঝলকানি। বাস থেকেই দৃশ্যটি সামনে এল। নেমেই তর তর করে এগিয়ে গেলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে। মনে মনে উচ্চারিত হলো , আগুনের পরশ মনি ছোঁয়াও প্রাণে। ...
আরও এগোই। ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি পূজা উদযাপন কমিটি দীপাবলির এই অনুষ্ঠানের আয়োজক। তারা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তখন। আমি তাদের কাছে যাই।
একদল শিক্ষার্থী তখন ফুলঝুরি নিয়ে ব্যস্ত। আইল্যান্ডে যাতে সুষম আলো ছড়িয়ে যায় সেদিকে তারা সতর্ক। কেউ আবার আলোর মুচি একস্থান থেকে অন্য স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন। এরই মধ্যে রাস্তার রিকশা সামলাতে হচ্ছে।
কী এক মোহনীয় সময়! অমাবস্যার আঁধার ভেদ করে দীপাবলির দীপ জ্বলছে। অন্ধকারের ওপর আলোর, অজ্ঞানতার ওপর জ্ঞানের, দুঃখের ওপর আনন্দের বিজয় ঘোষণা করছে তারা।
দীপাবলি হচ্ছে আলোর উৎসব। দীপা মানে প্রদীপ বা আলো এবং ভালি মানে সারি। সেই অর্থে দীপাবলি বলতে আলোর সারি। এটি মন্দের ওপর ভালোর বিজয় উদ্যাপন। একই অর্থে নেতিবাচকতা থেকে ইতিবাচকতায় উত্তরণ।
অমাবশ্যার রাত। কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এ সম্পর্কে চিত্তাকর্ষক একটি বর্ণনা দিয়েছেন। রাত্রির যে একটি রূপ আছে তাকে পৃথিবীর বন, মাটি, কাদা, জঙ্গল, পাহাড়, সৈকত ইত্যাদি থেকে পৃথক করে দেখা যায়। ভাবা যায় একান্ত করে। তিনি দেখেন, কালো নীলিম আকাশ তলে পৃথিবী জোড় আসন করে বসে আছে। আর সমস্ত বিশ্ব চরাচর তারই অটল শান্তি রক্ষায়।
এটা তেমনি একটি রাত। তবে পার্থক্য আছে, দেশ কেন গোটা পৃথিবী এখন অশান্ত। আর মানুষ এখানে শান্তির অন্বেষায় ব্যস্ত। মহাব্যস্ত।
ঘনিষ্ঠভাবে দেখার চেষ্টা করি তাদের কর্মতৎপরতা। এরই মধ্যে এক জায়গায় এলেন স্নিগ্ধতা ছড়ানো বৃহৎ একটি শিক্ষার্থীর দল। প্রিয়ন্তি পিউ জনসংখ্যা ও জনস্বাস্থ্য বিষয়ে পড়ছেন। বললেন, আমরা চতুর্থবারের মতো উদ্যাপন করছি দীপাবলি অনুষ্ঠান। চোখে মুখে তার তৃপ্তির রেখা। যেন যা পাবার তা পেয়ে গেছেন। আহা কী আনন্দ আকাশে বাতাসে!
শাড়িপরা টগবগে এই দলের ধরিত্রী দের বলার বুঝি অনেক কিছু। আহা মরি মরি! আলো চিকচিক করছে। তারা উপভোগ করছেন অনুষ্ঠানকে। আরও আছেন জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শর্মিষ্ঠা রায় আর বিবিএর বাধন বোস। এরাই দিনেরবেলায় মুক্ত পথে আল্পনা এঁকেছেন। সৌন্দর্য ছড়িয়েছেন মনের মাধুরীতে।
মাটির মুচি সংগ্রহ করেছেন তারা। শিল্পীর আঁচড় কেটেছেন। তারপর সলতে যোগে প্রদীপ জ্বেলেছেন।

অভিজিৎ ঘোষ এই উদ্যোগের সঙ্গে আষ্টেপৃষ্ঠে বাধা। ভিন্নধর্মী পর্যবেক্ষণ তার। নিজেকে সাধারণ শিক্ষার্থী বলে পরিচয় দেন। কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে দীপাবলি কর্মসূচি নিলেও পর্যাপ্ত সময় জোটেনি। যোজন যোজন আক্ষেপ তার। সন্ধ্যে ৭টায় রাস্তা বন্ধ করা হয়েছে। চালু হলো ৯টায়। উদ্যাপনের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে এই দুই ঘন্টা। এটা কি যথেষ্ট এই দীপাবলির জন্য? হয়তোবা হ্যাঁ, হয়তোবা না।
আলো ঝলমল পরিবেশ। হতাশার অন্ধকার বুঝি কেটে গেল! হঠাৎ করেই তার মনে এক নতুন আশার ঝলকানি দেখা দিল। ঠিক যেন জমাট মেঘ ভেদ করে এক চিলতে সূর্যের আলো, যা মুহূর্তেই মনের অন্ধকার দূর করে দিল। দীপাবলির মাধুর্য খুঁজে পেলাম। আমি যাই অন্যদের কাছে।
আয়োজক কমিটির সভাপতি সাগর সাহা অনেক শিক্ষার্থীকে কাছে পেয়েছেন। এটাকে তিনি আন্তরিকতা থেকে পাওয়া ইতিবাচক ফল বলে মনে করেন। একসাথে হওয়ার ব্যাপারটিকে অন্য মাত্রার একটি ব্যাপার বলে উল্লেখ করেন।
কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুদীপ পাল। কথার মধ্যে আছেন তিনিও। বলেন, আলোর উৎসব আমাদের সংস্কৃতির ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
আরও কথা হয় এই দুই নেতার সঙ্গে। পরম মমতায় ব্যাখ্যা দেন। বৈদিক যুগে দীপাবলি ছিল ফসল কাটার শেষের উৎসব, যখন কৃষকেরা তাদের শ্রমের ফল উদ্যাপন করত। সময়ের বিবর্তনে দীপাবলি এখন কৃষি উৎসব থেকে আলোর উৎসবে।
দীপাবলির সমর্থনে আছে জনপ্রিয় রাম, সীতা ও লক্ষ্মণের অযোধ্যায় ফেরার কাহিনি। সেসময় নরনারী রাম–সীতাকে আলোর বন্যায় বরণ করে নেন।
দেখা হয় ইংরেজি সাহিত্যের শিক্ষার্থী শেফা এবং বিবিএর নাজিফার সঙ্গে। চতুর্দিকে আলোর খেলায় বিস্ময়ের চোখ তাদের। শেফা বলেন, ধর্ম–বর্ণ নির্বিশেষে আমরা সময়টি উপভোগ করছি। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে এমন উদ্যোগকে প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন নাজিফা।
আলো হলো পবিত্রতা, সৌভাগ্য, পরাক্রমকে জয় করার প্রতীক। অন্ধকার ও অশুভ শক্তিকে নাশ করার একটি পবিত্র দিন। একগুচ্ছ প্রদীপের সমষ্টিই হলো এই আলোর উত্সবের গুরুত্ব। সহিষ্ণু নাম তার। কম্পিউটার সায়েন্সের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। দীপাবলি অনুষ্ঠানে কর্মীর ভূমিকায়। বললেন, সবার সাথে কাজ করতে পেরে আলাদা অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন তিনি।
কৌশিক পাল এই কমিটির সহযোগী সদস্য। বলেন, সৌন্দর্যের এমন কর্মের মধ্য দিয়ে ঐক্য, বন্ধুত্ব, সৃজনশীলতার হাত আরও বেশি শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
পাণ্ডবেরা ১২ বছর বনবাস এবং এক বছর অজ্ঞাতবাসের পর দীপাবলির দিন হস্তিনাপুরে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন। এ সময় সমগ্র হস্তিনাপুরের প্রান্তর দীপমালাসজ্জিত করা হয়েছিল।
রোহিত সুর কমিটির জ্যেষ্ঠ সহযোগী। কথায় তার পরিপক্কতার ছোঁয়া। পরিবার হতে পারে চিত্তের বিকাশের জন্য প্রাথমিক সোপান। আস্তে আস্তে তারই বিস্তৃতি এই প্রাঙ্গণ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়কে এই চরচার জন্য উপযুক্ত ক্ষেত্র বলে উল্লেখ করেন।
উদ্যোক্তাদের মুখে শান্তির ছবি দেখতে পাই। হৃদয়ে বাজে, এ জীবন পুণ্য করো দহন-দানে॥... আমি ছুটি বাড়ির দিকে।
*লেখক কথাসাহিত্যিক ও প্রকৌশলী

হঠাৎ আলোর ঝলকানি। বাস থেকেই দৃশ্যটি সামনে এল। নেমেই তর তর করে এগিয়ে গেলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে। মনে মনে উচ্চারিত হলো , আগুনের পরশ মনি ছোঁয়াও প্রাণে। ...
আরও এগোই। ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি পূজা উদযাপন কমিটি দীপাবলির এই অনুষ্ঠানের আয়োজক। তারা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তখন। আমি তাদের কাছে যাই।
একদল শিক্ষার্থী তখন ফুলঝুরি নিয়ে ব্যস্ত। আইল্যান্ডে যাতে সুষম আলো ছড়িয়ে যায় সেদিকে তারা সতর্ক। কেউ আবার আলোর মুচি একস্থান থেকে অন্য স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন। এরই মধ্যে রাস্তার রিকশা সামলাতে হচ্ছে।
কী এক মোহনীয় সময়! অমাবস্যার আঁধার ভেদ করে দীপাবলির দীপ জ্বলছে। অন্ধকারের ওপর আলোর, অজ্ঞানতার ওপর জ্ঞানের, দুঃখের ওপর আনন্দের বিজয় ঘোষণা করছে তারা।
দীপাবলি হচ্ছে আলোর উৎসব। দীপা মানে প্রদীপ বা আলো এবং ভালি মানে সারি। সেই অর্থে দীপাবলি বলতে আলোর সারি। এটি মন্দের ওপর ভালোর বিজয় উদ্যাপন। একই অর্থে নেতিবাচকতা থেকে ইতিবাচকতায় উত্তরণ।
অমাবশ্যার রাত। কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এ সম্পর্কে চিত্তাকর্ষক একটি বর্ণনা দিয়েছেন। রাত্রির যে একটি রূপ আছে তাকে পৃথিবীর বন, মাটি, কাদা, জঙ্গল, পাহাড়, সৈকত ইত্যাদি থেকে পৃথক করে দেখা যায়। ভাবা যায় একান্ত করে। তিনি দেখেন, কালো নীলিম আকাশ তলে পৃথিবী জোড় আসন করে বসে আছে। আর সমস্ত বিশ্ব চরাচর তারই অটল শান্তি রক্ষায়।
এটা তেমনি একটি রাত। তবে পার্থক্য আছে, দেশ কেন গোটা পৃথিবী এখন অশান্ত। আর মানুষ এখানে শান্তির অন্বেষায় ব্যস্ত। মহাব্যস্ত।
ঘনিষ্ঠভাবে দেখার চেষ্টা করি তাদের কর্মতৎপরতা। এরই মধ্যে এক জায়গায় এলেন স্নিগ্ধতা ছড়ানো বৃহৎ একটি শিক্ষার্থীর দল। প্রিয়ন্তি পিউ জনসংখ্যা ও জনস্বাস্থ্য বিষয়ে পড়ছেন। বললেন, আমরা চতুর্থবারের মতো উদ্যাপন করছি দীপাবলি অনুষ্ঠান। চোখে মুখে তার তৃপ্তির রেখা। যেন যা পাবার তা পেয়ে গেছেন। আহা কী আনন্দ আকাশে বাতাসে!
শাড়িপরা টগবগে এই দলের ধরিত্রী দের বলার বুঝি অনেক কিছু। আহা মরি মরি! আলো চিকচিক করছে। তারা উপভোগ করছেন অনুষ্ঠানকে। আরও আছেন জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শর্মিষ্ঠা রায় আর বিবিএর বাধন বোস। এরাই দিনেরবেলায় মুক্ত পথে আল্পনা এঁকেছেন। সৌন্দর্য ছড়িয়েছেন মনের মাধুরীতে।
মাটির মুচি সংগ্রহ করেছেন তারা। শিল্পীর আঁচড় কেটেছেন। তারপর সলতে যোগে প্রদীপ জ্বেলেছেন।

অভিজিৎ ঘোষ এই উদ্যোগের সঙ্গে আষ্টেপৃষ্ঠে বাধা। ভিন্নধর্মী পর্যবেক্ষণ তার। নিজেকে সাধারণ শিক্ষার্থী বলে পরিচয় দেন। কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে দীপাবলি কর্মসূচি নিলেও পর্যাপ্ত সময় জোটেনি। যোজন যোজন আক্ষেপ তার। সন্ধ্যে ৭টায় রাস্তা বন্ধ করা হয়েছে। চালু হলো ৯টায়। উদ্যাপনের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে এই দুই ঘন্টা। এটা কি যথেষ্ট এই দীপাবলির জন্য? হয়তোবা হ্যাঁ, হয়তোবা না।
আলো ঝলমল পরিবেশ। হতাশার অন্ধকার বুঝি কেটে গেল! হঠাৎ করেই তার মনে এক নতুন আশার ঝলকানি দেখা দিল। ঠিক যেন জমাট মেঘ ভেদ করে এক চিলতে সূর্যের আলো, যা মুহূর্তেই মনের অন্ধকার দূর করে দিল। দীপাবলির মাধুর্য খুঁজে পেলাম। আমি যাই অন্যদের কাছে।
আয়োজক কমিটির সভাপতি সাগর সাহা অনেক শিক্ষার্থীকে কাছে পেয়েছেন। এটাকে তিনি আন্তরিকতা থেকে পাওয়া ইতিবাচক ফল বলে মনে করেন। একসাথে হওয়ার ব্যাপারটিকে অন্য মাত্রার একটি ব্যাপার বলে উল্লেখ করেন।
কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুদীপ পাল। কথার মধ্যে আছেন তিনিও। বলেন, আলোর উৎসব আমাদের সংস্কৃতির ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
আরও কথা হয় এই দুই নেতার সঙ্গে। পরম মমতায় ব্যাখ্যা দেন। বৈদিক যুগে দীপাবলি ছিল ফসল কাটার শেষের উৎসব, যখন কৃষকেরা তাদের শ্রমের ফল উদ্যাপন করত। সময়ের বিবর্তনে দীপাবলি এখন কৃষি উৎসব থেকে আলোর উৎসবে।
দীপাবলির সমর্থনে আছে জনপ্রিয় রাম, সীতা ও লক্ষ্মণের অযোধ্যায় ফেরার কাহিনি। সেসময় নরনারী রাম–সীতাকে আলোর বন্যায় বরণ করে নেন।
দেখা হয় ইংরেজি সাহিত্যের শিক্ষার্থী শেফা এবং বিবিএর নাজিফার সঙ্গে। চতুর্দিকে আলোর খেলায় বিস্ময়ের চোখ তাদের। শেফা বলেন, ধর্ম–বর্ণ নির্বিশেষে আমরা সময়টি উপভোগ করছি। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে এমন উদ্যোগকে প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন নাজিফা।
আলো হলো পবিত্রতা, সৌভাগ্য, পরাক্রমকে জয় করার প্রতীক। অন্ধকার ও অশুভ শক্তিকে নাশ করার একটি পবিত্র দিন। একগুচ্ছ প্রদীপের সমষ্টিই হলো এই আলোর উত্সবের গুরুত্ব। সহিষ্ণু নাম তার। কম্পিউটার সায়েন্সের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। দীপাবলি অনুষ্ঠানে কর্মীর ভূমিকায়। বললেন, সবার সাথে কাজ করতে পেরে আলাদা অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন তিনি।
কৌশিক পাল এই কমিটির সহযোগী সদস্য। বলেন, সৌন্দর্যের এমন কর্মের মধ্য দিয়ে ঐক্য, বন্ধুত্ব, সৃজনশীলতার হাত আরও বেশি শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
পাণ্ডবেরা ১২ বছর বনবাস এবং এক বছর অজ্ঞাতবাসের পর দীপাবলির দিন হস্তিনাপুরে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন। এ সময় সমগ্র হস্তিনাপুরের প্রান্তর দীপমালাসজ্জিত করা হয়েছিল।
রোহিত সুর কমিটির জ্যেষ্ঠ সহযোগী। কথায় তার পরিপক্কতার ছোঁয়া। পরিবার হতে পারে চিত্তের বিকাশের জন্য প্রাথমিক সোপান। আস্তে আস্তে তারই বিস্তৃতি এই প্রাঙ্গণ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়কে এই চরচার জন্য উপযুক্ত ক্ষেত্র বলে উল্লেখ করেন।
উদ্যোক্তাদের মুখে শান্তির ছবি দেখতে পাই। হৃদয়ে বাজে, এ জীবন পুণ্য করো দহন-দানে॥... আমি ছুটি বাড়ির দিকে।
*লেখক কথাসাহিত্যিক ও প্রকৌশলী
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৫ সালের ইদ আল ইতিহাদ উদ্যাপনের অংশ হিসেবে দেশটির শাসকেরা এ ক্ষমার ঘোষণা দেন। এ সময় বিভিন্ন দেশের হাজারো বন্দিকেও ক্ষমার আওতায় আনা হয়। প্রতি বছর জাতীয় দিবস ও ঈদসহ গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ও ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে আমিরাতের শাসকেরা দণ্ডপ্রাপ্তদের রাজকীয় ক্ষমা দিয়ে থাকেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে ভুয়া খবরের ‘বন্যা ও পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি’ ছড়ানো হয়েছে। তবে অন্তর্বর্তী সরকার আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রতিশ্রুতিতে অটল। অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণা শেষে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে।
২০২৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তিউনিশিয়া উপকূলে পৌঁছানোর আগেই নৌকাটি ডুবে গেলে ৮ বাংলাদেশি নাগরিক মারা যান। তারা হলেন সজল বৈরাগী, মামুন শেখ, নয়ন বিশ্বাস, কাজী সজিব, কায়সার খলিফা, মো. রিফাত শেখ, রাসেল শেখ এবং ইমরুল কায়েস আপন।
মধ্যপ্রাচ্যগামী বাংলাদেশি কর্মীদের ভিসা-সংক্রান্ত প্রতারণা থেকে সুরক্ষা দেওয়া এবং নিরাপদ ও স্বচ্ছ অভিবাসন নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য। সেবাটি এরই মধ্যে চালু হয়েছে এবং ১৬৭৬৮ নম্বরে ফোন করে এই সেবা পাওয়া যাচ্ছে।