logo
প্রবাসের খবর

গ্রিসে অভিবাসী পুলিশের হেফাজতে এক বাংলাদেশির মৃত্যু

বিডিজেন ডেস্ক
বিডিজেন ডেস্ক০৮ অক্টোবর ২০২৪
Copied!
গ্রিসে অভিবাসী পুলিশের হেফাজতে এক বাংলাদেশির মৃত্যু
খালিস মিয়া। ছবি: সংগৃহীত

গ্রিসে অভিবাসী পুলিশের হেফাজতে এক বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। ১ অক্টোবর (মঙ্গলবার) তিনি মারা গেছেন।

২৯ বছর বয়সী মৃত এই বাংলাদেশির নাম খালিস মিয়া। তাঁর বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায়।

জানা গেছে, খালিস মিয়া রাজধানী এথেন্সের একটি থানার হাজতে আটক ছিলেন।

এদিকে এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের দাবি করেছে গ্রিসের বাংলাদেশ দূতাবাস ও অভিবাসন সংস্থাগুলো।

বাংলাদেশ দূতাবাস সোমবার (৭ অক্টোবর) ইনফোমাইগ্রেন্টসকে বলেছে, আমরা এটিকে আপাতত অপমৃত্যু হিসেবে দেখছি। বাকিটা তদন্তে জানা যাবে।

মৃত খালিস মিয়াকে বাংলাদেশি অধ্যুষিত ওমোনিয়া এলাকা থেকে পুলিশের গাড়ির ক্ষতি করার অপরাধে আটক করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তিনি একজন অনথিভুক্ত অভিবাসী ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) সকালে পুলিশ সদস্যরা খালিস মিয়াকে ঝুলন্ত অবস্থায় ঝুলতে দেখতে পান। তাকে যে সেলে রাখা হয়েছিল, সেখানে আরও ১১ জন বন্দী ছিলেন।

অভিবাসীর মৃত্যুর ঘটনা এথেন্সের প্রসিকিউটরকে জানানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে গ্রিক পুলিশ।

এ ছাড়া, একজন মেডিকেল পরীক্ষক ও ফৌজদারি অধিদপ্তরের একটি ইউনিট ঘটনা তদন্তের জন্য ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

গ্রিসে সদ্য নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নাহিদা রহমান সুমনা এ ঘটনার বিষয়ে সোমবার ইনফোমাইগ্রেন্টসকে বলেন, ‘এ ঘটনায় আমি খুবই কষ্ট পেয়েছি। গ্রিসের মতো দেশে এটি মেনে নেওয়া কষ্টের। কর্তৃপক্ষ আমাদের এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। আমরা তাদের কাছে বিস্তারিত জানতে চেয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘দূতাবাসের পক্ষ থেকে মৃতের একজন ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। আমরা দেশে অবস্থানরত তার মায়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি। পরিবারের সম্মতি মিললে এ ঘটনায় ন্যায় বিচার পেতে আমাদের পক্ষ থেকে একজন আইনজীবী নিয়োগ করা হবে।’

গ্রিসে এ নিয়ে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দুজন অভিবাসী পুলিশের হেফাজতে মারা গেলেন। গত মাসে একজন পাকিস্তানি অভিবাসী একই থানায় মারা গেলে এ বিষয়ে বিশদ তন্তের আদেশ দিয়েছেন দেশটির বিচার বিভাগ। গ্রিক পুলিশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় আইন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে৷ এর ফলে গ্রিক পুলিশ নিয়মিতভাবে বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ শাস্তিমূলক পদ্ধতির সম্মুখীন হয়৷ তবে এসব অভিযোগে শাস্তির মাত্রা খুব কমই বলে অভিযোগ করে আসছেন অধিকার কর্মীরা৷

এ ঘটনার বিষয়ে ইনফোমাইগ্রেন্টসের সঙ্গে কথা বলেছেন দেশটির অভিবাসন সংস্থা কেরফার পরিচালক ও এথেন্স মিউনিসিপ্যালিটির কাউন্সিলর পেট্রোস কনস্টান্টিনো।

তিনি বলেন, 'গ্রিসে বর্তমানে বিভিন্ন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশি সহিংসতার মুখোমুখি হচ্ছেন অভিবাসী ও আশ্রয়প্রার্থীরা। বাংলাদেশি খালিস মিয়াকে আটকের মাত্র দেড় ঘণ্টা পর তিনি মারা গেছেন। আমরা মনে করছি সহিংস ঘটনায় তার মৃত্যু হয়েছে।'

তিনি আরও বলেন, 'পুলিশ প্রথমে বলেছিল খালিস মিয়া পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করেছে। আমরা সেই গাড়ি দেখতে চাইলে তারা জানায় সে গাড়ির আয়না ভেঙেছে। তার মানে একটি গাড়ির আয়নার জন্য একজন অভিবাসীর প্রাণ চলে গেল? গত মাসে এক পাকিস্তানি অভিবাসীও এভাবে মারা গেল। আমরা তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছি এবং প্রথম ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছি।'

এ ঘটনায় সোমবার আটক কেন্দ্র এবং হাজতে বন্দিদের অধিকার নিয়ে দায়িত্বরত জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেছে কেরফাসহ অভিবাসন ও অধিকার সংগঠনগুলো।

এদিকে খালিস মিয়া মৃত্যুর প্রতিবাদে আগামী ১২ অক্টোবর ঘটনাস্থলে সামনে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশি কমিউনিটি ইন গ্রিস, বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদ, অভিবাসন সংস্থা কেরফাসহ বেশ কয়েকটি সংগঠন।

সূত্র: ইনফোমাইগ্রেন্টস

আরও দেখুন

আমিরাতে বিতাড়নের শিকার হচ্ছেন পাকিস্তানি শিয়ারা, জমানো অর্থ–লাগেজ কিছুই নিতে পারছেন না

আমিরাতে বিতাড়নের শিকার হচ্ছেন পাকিস্তানি শিয়ারা, জমানো অর্থ–লাগেজ কিছুই নিতে পারছেন না

পাকিস্তানের শিয়া সম্প্রদায়ের নেতারা বলছেন, যুদ্ধ শুরুর পর বিতাড়নের ঘটনা আরও বেড়েছে। এই সংঘাতের কারণে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বেড়েছে। বিশেষ করে ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

৪ দিন আগে

আমেরিকার গ্রিন কার্ড পেতে হলে ফিরতে হবে নিজ দেশে

আমেরিকার গ্রিন কার্ড পেতে হলে ফিরতে হবে নিজ দেশে

ইউএসসিআইএসের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, কোনো বিদেশি যদি সাময়িকভাবে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন এবং গ্রিন কার্ড পেতে চান, তবে তাকে অবশ্যই নিজ দেশে ফিরে গিয়ে আবেদন করতে হবে।

৬ দিন আগে

যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে আমিরাতের ভাবমূর্তি চ্যালেঞ্জের মুখে

যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে আমিরাতের ভাবমূর্তি চ্যালেঞ্জের মুখে

বিপুল নগদ অর্থের মজুত থাকায় যুদ্ধজনিত অর্থনৈতিক অস্থিরতায় এখন পর্যন্ত বড় ধরনের চাকরি হারানো বা বিদেশি ব্যবসার ব্যাপক প্রস্থান দেখা যায়নি। তবে অচলাবস্থা যত দীর্ঘ এবং স্বাভাবিক ব্যবসা-বাণিজ্য যত ব্যাহত হবে, আন্তর্জাতিক ব্যবসা ও বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ইউএইর ভাবমূর্তি তত বেশি ঝুঁকির মুখে পড়বে।

১১ দিন আগে

অস্ট্রেলিয়ায় স্ত্রী ও দুই প্রতিবন্ধী সন্তান হত্যার অভিযোগে বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

অস্ট্রেলিয়ায় স্ত্রী ও দুই প্রতিবন্ধী সন্তান হত্যার অভিযোগে বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের অ্যাকটিং সুপারিনটেনডেন্ট মাইকেল মরোনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, নিহতদের শরীরে ধারালো অস্ত্রের গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা এতটাই বিভৎস যে বিস্তারিত প্রকাশের যোগ্য নয়।

১১ দিন আগে