logo
প্রবাসের খবর

চীনা পণ্যে শুল্ক ‘উল্লেখযোগ্য’ পরিমাণে কমিয়ে সুখে বসবাসের ঘোষণা ট্রাম্পের

বিডিজেন ডেস্ক
বিডিজেন ডেস্ক২৩ এপ্রিল ২০২৫
Copied!
চীনা পণ্যে শুল্ক ‘উল্লেখযোগ্য’ পরিমাণে কমিয়ে সুখে বসবাসের ঘোষণা ট্রাম্পের
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা পণ্যের ওপর যে বিশাল শুল্ক আছে তা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমিয়ে আনা হবে, তবে সেটি আর ‘শূন্যের কোটায় আসবে না। স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প এ তথ্য জানান।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর দিয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে ট্রাম্পের এই মন্তব্যের আগে, গতকাল মঙ্গলবারই যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি তথা অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছিলেন, উচ্চ শুল্ক টেকসই নয়। তিনি বিশ্বের বৃহত্তম দুটি অর্থনীতির মধ্যে বাণিজ্য যুদ্ধ কমার (ডি-এসকেলেশন) আশা করছেন। এর পরপরই ট্রাম্প এই মন্তব্য করলেন।

বেসেন্টের মন্তব্যের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দুই কর্মকর্তা তাঁর বক্তব্যের বিস্তারিত বিষয় প্রকাশ করেছেন। তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। বেসেন্ট বলেছিলেন, ‘চীনের সঙ্গে আলোচনা একটি কঠিন প্রক্রিয়া হতে চলেছে। কোনো পক্ষই মনে করে না যে বর্তমান অবস্থা টেকসই।’

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ প্রথম বেসেন্টের মন্তব্য নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এর পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ৫০০ কোম্পানির শেয়ারবাজার এসঅ্যান্ডপি-৫০০ এর শেয়ার সূচক আড়াই শতাংশ বেড়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে পল অ্যাটকিন্সের আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণের পর সাংবাদিকদের কাছে মন্তব্যে ট্রাম্প শেয়ারবাজারের এই বৃদ্ধি স্বীকার করেছেন।

ট্রাম্প চীনের সঙ্গে পরিস্থিতি টেকসই কি না, তা নিশ্চিত করা এড়িয়ে গেছেন। ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘চীনের সঙ্গে আমরা ভালোই করছি।’ ট্রাম্প চীনের ওপর ১৪৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করেছেন। জবাবে চীনও যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর ১২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। ট্রাম্প বেশ কয়েকটি দেশের ওপর শুল্ক বসিয়েছেন। এর ফলে শেয়ারবাজার হোঁচট খেয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ঋণের ওপর সুদহার বেড়েছে। বিনিয়োগকারীরা ধীর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ে উদ্বিগ্ন।

তার উচ্চ শুল্ক সত্ত্বেও ট্রাম্প বলেছেন যে তিনি চীনের প্রতি ‘খুবই সদয়’ আচরণ করবেন। চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে কঠোর হবেন না। ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা খুব আনন্দের সঙ্গে একসঙ্গে বসবাস করব এবং আদর্শভাবে একসঙ্গে কাজ করব।’ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বলেন, চীনের সঙ্গে চূড়ান্ত শুল্ক হার বর্তমান ১৪৫ শতাংশ থেকে ‘উল্লেখযোগ্যভাবে’ কমবে। ট্রাম্প বলেন, ‘এটি এত বেশি হবে না, এত বেশি হবে না।’

ট্রাম্প প্রশাসন জাপান, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা, মেক্সিকোসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে আলোচনা করেছে। কিন্তু ট্রাম্প তাঁর ১০ শতাংশ বেসলাইন শুল্ক প্রত্যাহার করার কোনো প্রকাশ্যে ইঙ্গিত দেননি। এমনকি তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, তিনি অন্য দেশগুলো তাদের নিজস্ব আমদানি শুল্ক কমাতে এবং যেকোনো অশুল্ক বাধা দূর করতে চায়। প্রশাসন বলছে, এই বাধাগুলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে রপ্তানি ব্যাহত করেছে।

এর আগে, গত সোমবার চীন অন্য দেশকে সতর্ক করেছে এমন বাণিজ্য চুক্তি করা থেকে বিরত থাকতে যা চীনের স্বার্থের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘চীন দৃঢ়ভাবে যেকোনো পক্ষের এমন চুক্তির বিরোধিতা করে, যা চীনের স্বার্থের ক্ষতি করে।’

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির জন্য অন্য দেশ থেকে ১৮টি প্রস্তাব পেয়েছে। তিনি যোগ করেন, ‘সংশ্লিষ্ট সবাই একটি বাণিজ্য চুক্তি দেখতে চায়।’

আরও দেখুন

আমিরাতে বিতাড়নের শিকার হচ্ছেন পাকিস্তানি শিয়ারা, জমানো অর্থ–লাগেজ কিছুই নিতে পারছেন না

আমিরাতে বিতাড়নের শিকার হচ্ছেন পাকিস্তানি শিয়ারা, জমানো অর্থ–লাগেজ কিছুই নিতে পারছেন না

পাকিস্তানের শিয়া সম্প্রদায়ের নেতারা বলছেন, যুদ্ধ শুরুর পর বিতাড়নের ঘটনা আরও বেড়েছে। এই সংঘাতের কারণে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বেড়েছে। বিশেষ করে ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

৪ দিন আগে

আমেরিকার গ্রিন কার্ড পেতে হলে ফিরতে হবে নিজ দেশে

আমেরিকার গ্রিন কার্ড পেতে হলে ফিরতে হবে নিজ দেশে

ইউএসসিআইএসের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, কোনো বিদেশি যদি সাময়িকভাবে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন এবং গ্রিন কার্ড পেতে চান, তবে তাকে অবশ্যই নিজ দেশে ফিরে গিয়ে আবেদন করতে হবে।

৬ দিন আগে

যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে আমিরাতের ভাবমূর্তি চ্যালেঞ্জের মুখে

যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে আমিরাতের ভাবমূর্তি চ্যালেঞ্জের মুখে

বিপুল নগদ অর্থের মজুত থাকায় যুদ্ধজনিত অর্থনৈতিক অস্থিরতায় এখন পর্যন্ত বড় ধরনের চাকরি হারানো বা বিদেশি ব্যবসার ব্যাপক প্রস্থান দেখা যায়নি। তবে অচলাবস্থা যত দীর্ঘ এবং স্বাভাবিক ব্যবসা-বাণিজ্য যত ব্যাহত হবে, আন্তর্জাতিক ব্যবসা ও বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ইউএইর ভাবমূর্তি তত বেশি ঝুঁকির মুখে পড়বে।

১০ দিন আগে

অস্ট্রেলিয়ায় স্ত্রী ও দুই প্রতিবন্ধী সন্তান হত্যার অভিযোগে বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

অস্ট্রেলিয়ায় স্ত্রী ও দুই প্রতিবন্ধী সন্তান হত্যার অভিযোগে বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের অ্যাকটিং সুপারিনটেনডেন্ট মাইকেল মরোনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, নিহতদের শরীরে ধারালো অস্ত্রের গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা এতটাই বিভৎস যে বিস্তারিত প্রকাশের যোগ্য নয়।

১১ দিন আগে