
ফারহানা আহমেদ লিসা

নতুন বছর এসে গেছে—বাংলা নববর্ষের সাজ সাজ রব চারদিকে। তাড়াহুড়া করে কাজ শেষ করতে চেষ্টা করছি। বন্ধুর বাসায় যাব কাজ শেষ করে।
কিন্তু হাসপাতালে ব্যস্ততা অনেক। গত ছয় দিন ধরে অসুস্থ একজন রোগীকে দেখছি। তার ক্যানসার এমনভাবে ছড়িয়েছে, যত বেশি চেষ্টাই করা হোক, তার আয়ু বাড়ানো যাবে না। চেষ্টা করছি কথাটা তার স্বজনদের বোঝাতে। তারা কিছুতেই আমার কথা বুঝতে পারছেন না। তাদের টাকা–পয়সা আছে সীমাহীন। রোগীর লোকজন এত নখরা করেন না সাধারণত। তারা একদিন নার্সদেরকে বলেন, ডাক্তারকে আগে থেকে জানাতে হবে কখন দেখতে আসবে। দেখতে গেলে কোটি কোটি প্রশ্ন করে সব উত্তর শুনে তারপর বলতেন, রোগীর ভাইকে ফোন করো। তিনি সব সিদ্ধান্ত নেবেন রোগীর ব্যাপারে। তাকে ফোন করি, মেসেজ রাখি, না তিনি ফোন ধরেন, না কল ব্যাক করেন। ছয় দিন একই অবস্থা।
আজ রোগীর ইউনিটে যেতেই দেখি নার্সরা ছোটাছুটি করছে। একজন হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এলো। সেই রোগীর ভাই আসবেন। তিনি হলিউডের বিশিষ্ট একজন। পরিচয় গোপন করে আসছেন ইত্যাদি, ইত্যাদি। ভালো ঝামেলা। কত রং ঢং করবেন কে জানে। আমার চোখের সামনে চুড়ি, টিপ, পিঠা, ভর্তা, গানসহ সব কিছুর স্বপ্ন। আহা, যেতে পারব তো?

শেষ পর্যন্ত ভদ্রলোক এলেন। বললেন, হাসপাতালের ব্যালকনিতে তোমার সাথে বসতে পারব একটু? কথা বলব।
নার্স খুলে দিলেন ব্যালকনি। মনে মনে ভাবলাম গত ছয় দিন কথা বলতে বলতে গলা শুকিয়ে গেছে। আজকে কী আছে কপালে কে জানে। সেখানে আমরা বসলাম।
ভদ্রলোক বিখ্যাত একজন মানুষ। সাধারণ জিন্স ও টি শার্ট পরা। আমি বসার পর তিনি বসলেন। তারপর বললেন, আমি এত ব্যস্ত ছিলাম…যতবার আপনি ফোন করেছেন, ধরতে পারিনি। আপনি কী বলেন…সব চিকিৎসা করলেও কি আমার ভাই বাঁচবেন?
আমি বললাম, না।
ভদ্রলোক বললেন, ব্যাস এতটুকুই যথেষ্ট। পুরো টাকা দিয়ে আমি সমুদ্রের পাশে একটা হসপিসটাল ফ্যাসিলিটিতে ওকে নিয়ে যাব। আমি দুঃখিত, সবাই আপনাকে অনেক কঠিন সময়ের মধ্যে ফেলেছে গত ছয় দিন। তিনি বলতে থাকেন, সব ক্ষমতা, টাকা পয়সা সব কিছু থাকলেও যদি সিদ্ধান্ত সঠিক না নিতে পারি তাহলে পরাজয় হবেই। যেখানে পরাজয় অবধারিত সেখানে মেনে নিয়ে জীবন চালানোই সহজ হবে না? তার চোখে পানি। তিনি আরও বললেন, পৃথিবীর সবাই সত্য মেনে নিলে আজকে পৃথিবী এত অশান্ত হতো না। যা চাই সব পাব না সেটা আমি যেই হই না কেন।
তারপর কাজ মোটামুটি তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে গেল। বাসায় ফিরে বন্ধুর দেওয়া জামদানি শাড়ি পরলাম, গেলাম বন্ধুর বাসায়। ওরা রমনা বটমূলের আদলে বাসার একটা কোণা সাজিয়েছে। টেবিলে বাতাসা নিমকি পিঠা মিষ্টি ঝালমুড়ির পসরা। গান গাইছে কয়েকজন বন্ধু বসে—এসো হে বৈশাখ এসো এসো।
নতুন বছর যুদ্ধহীন হোক, মানবতার জয় হোক, পৃথিবীর সব ভালো মানুষগুলো খুব ভালো থাকুন।
"মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা,
অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা।"
*ফারহানা আহমেদ লিসা: সান ডিয়াগো, ক্যালিফোর্নিয়া, আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র

নতুন বছর এসে গেছে—বাংলা নববর্ষের সাজ সাজ রব চারদিকে। তাড়াহুড়া করে কাজ শেষ করতে চেষ্টা করছি। বন্ধুর বাসায় যাব কাজ শেষ করে।
কিন্তু হাসপাতালে ব্যস্ততা অনেক। গত ছয় দিন ধরে অসুস্থ একজন রোগীকে দেখছি। তার ক্যানসার এমনভাবে ছড়িয়েছে, যত বেশি চেষ্টাই করা হোক, তার আয়ু বাড়ানো যাবে না। চেষ্টা করছি কথাটা তার স্বজনদের বোঝাতে। তারা কিছুতেই আমার কথা বুঝতে পারছেন না। তাদের টাকা–পয়সা আছে সীমাহীন। রোগীর লোকজন এত নখরা করেন না সাধারণত। তারা একদিন নার্সদেরকে বলেন, ডাক্তারকে আগে থেকে জানাতে হবে কখন দেখতে আসবে। দেখতে গেলে কোটি কোটি প্রশ্ন করে সব উত্তর শুনে তারপর বলতেন, রোগীর ভাইকে ফোন করো। তিনি সব সিদ্ধান্ত নেবেন রোগীর ব্যাপারে। তাকে ফোন করি, মেসেজ রাখি, না তিনি ফোন ধরেন, না কল ব্যাক করেন। ছয় দিন একই অবস্থা।
আজ রোগীর ইউনিটে যেতেই দেখি নার্সরা ছোটাছুটি করছে। একজন হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এলো। সেই রোগীর ভাই আসবেন। তিনি হলিউডের বিশিষ্ট একজন। পরিচয় গোপন করে আসছেন ইত্যাদি, ইত্যাদি। ভালো ঝামেলা। কত রং ঢং করবেন কে জানে। আমার চোখের সামনে চুড়ি, টিপ, পিঠা, ভর্তা, গানসহ সব কিছুর স্বপ্ন। আহা, যেতে পারব তো?

শেষ পর্যন্ত ভদ্রলোক এলেন। বললেন, হাসপাতালের ব্যালকনিতে তোমার সাথে বসতে পারব একটু? কথা বলব।
নার্স খুলে দিলেন ব্যালকনি। মনে মনে ভাবলাম গত ছয় দিন কথা বলতে বলতে গলা শুকিয়ে গেছে। আজকে কী আছে কপালে কে জানে। সেখানে আমরা বসলাম।
ভদ্রলোক বিখ্যাত একজন মানুষ। সাধারণ জিন্স ও টি শার্ট পরা। আমি বসার পর তিনি বসলেন। তারপর বললেন, আমি এত ব্যস্ত ছিলাম…যতবার আপনি ফোন করেছেন, ধরতে পারিনি। আপনি কী বলেন…সব চিকিৎসা করলেও কি আমার ভাই বাঁচবেন?
আমি বললাম, না।
ভদ্রলোক বললেন, ব্যাস এতটুকুই যথেষ্ট। পুরো টাকা দিয়ে আমি সমুদ্রের পাশে একটা হসপিসটাল ফ্যাসিলিটিতে ওকে নিয়ে যাব। আমি দুঃখিত, সবাই আপনাকে অনেক কঠিন সময়ের মধ্যে ফেলেছে গত ছয় দিন। তিনি বলতে থাকেন, সব ক্ষমতা, টাকা পয়সা সব কিছু থাকলেও যদি সিদ্ধান্ত সঠিক না নিতে পারি তাহলে পরাজয় হবেই। যেখানে পরাজয় অবধারিত সেখানে মেনে নিয়ে জীবন চালানোই সহজ হবে না? তার চোখে পানি। তিনি আরও বললেন, পৃথিবীর সবাই সত্য মেনে নিলে আজকে পৃথিবী এত অশান্ত হতো না। যা চাই সব পাব না সেটা আমি যেই হই না কেন।
তারপর কাজ মোটামুটি তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে গেল। বাসায় ফিরে বন্ধুর দেওয়া জামদানি শাড়ি পরলাম, গেলাম বন্ধুর বাসায়। ওরা রমনা বটমূলের আদলে বাসার একটা কোণা সাজিয়েছে। টেবিলে বাতাসা নিমকি পিঠা মিষ্টি ঝালমুড়ির পসরা। গান গাইছে কয়েকজন বন্ধু বসে—এসো হে বৈশাখ এসো এসো।
নতুন বছর যুদ্ধহীন হোক, মানবতার জয় হোক, পৃথিবীর সব ভালো মানুষগুলো খুব ভালো থাকুন।
"মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা,
অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা।"
*ফারহানা আহমেদ লিসা: সান ডিয়াগো, ক্যালিফোর্নিয়া, আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র
বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় তারেক রহমানের সামনেও সেই একই সুযোগ উন্মুক্ত। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ একটি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। নতুন বাংলাদেশ যদি আঞ্চলিক কূটনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা নেয়, তাহলে তা কেবল দেশের জন্য নয়, গোটা দক্ষিণ এশিয়ার জন্যই একটি যুগান্তকারী সুযোগ হতে পারে।
রামিসার ঘটনায় মানুষ রাস্তায় নেমেছে এটি ইতিবাচক দিক। কারণ, জনসচেতনতা তৈরি করতে সামাজিক প্রতিবাদের বিকল্প নেই। রাষ্ট্র ও নীতিনির্ধারকদের জবাবদিহির মুখোমুখি করতেও এ ধরনের আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ।
আমি চুমুক দিই।/ কফির তেতো স্বাদে হঠাৎ বুঝি,/ সব দেশ মানচিত্রে থাকে না,/ কিছু দেশ থাকে মানুষের অপেক্ষায়,/ কিছু শহর জন্ম নেয়/ একটি স্পর্শহীন হাতের ভেতর।
ইতিহাস বলছে, সংখ্যাগুরুদের আধিপত্য ও সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়ন রাষ্ট্র ভাঙনের পথ তৈরি করতে পারে। এ কারণেই ভারত ভাগ হয়ে পাকিস্তান হয়েছিল, আবার পাকিস্তান ভেঙে বাংলাদেশ জন্ম নিয়েছিল।

বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় তারেক রহমানের সামনেও সেই একই সুযোগ উন্মুক্ত। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ একটি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। নতুন বাংলাদেশ যদি আঞ্চলিক কূটনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা নেয়, তাহলে তা কেবল দেশের জন্য নয়, গোটা দক্ষিণ এশিয়ার জন্যই একটি যুগান্তকারী সুযোগ হতে পারে।
২ দিন আগে