
ফারহানা আহমেদ লিসা

ইদানিং ডে লাইট সেভিংসের জন্য সময় এক ঘন্টা পিছিয়েছে। কাজ শেষ করে বাসায় ফিরতে আঁধার নেমে আসে। আজকে ফেরার পথটুকুতে হুট করে ঘন কুয়াশা নেমে গেল, হাই বিম দিয়ে গতি কমিয়ে বাসায় ফিরছি। হুমায়ূন আহমেদের অতিপ্রাকৃত বইয়ের ঘটনা মনে পড়ে গেল, ‘মিসির আলি! আপনি কোথায়?’ ঠিক এমন কুয়াসাভরা সকালে চা খাচ্ছেন মিসির আলি, দূর থেকে মাইন্ড কন্ট্রোল করছে তার গল্পের নায়িকা। সে আসছে অতি সুন্দরী বা সাধারণ মেয়ে রূপে। আমি এক নিশ্বাসে পড়ছি, কবে মিসির আলি শহরে নিজ বাসায় ফিরবেন, এই তো সেদিন।
পথের মাঝে কিছু মানুষকে ইভিনিং ওয়াক করতে দেখছি। এর মাঝে কেউ কি ‘কালো জাদুকর’? ভীন গ্রহের কোনো মানবরূপী গাছ? মানুষের বেশে পৃথিবীতে এসেছে অন্ধ বোনের দৃষ্টি ফেরাতে।
কেউ কি আছে, ‘কুটু মিয়া’র বেশে? অনন্য সাধারণ কোনো রাঁধুনি? কী রোগ হয়েছিল তার যা চিকিৎসার অতীত?
টুপি পরা মানুষটা কি ‘ম্যাজিক মুন্সি’? গ্রামের মসজিদের ইমাম, নিজের বউকে ভালোবাসেন। কোন অলৌকিক উপায়ে অপূর্ব সুগন্ধি গোলাপ হাজির করবেন বা চা পাতার সুগন্ধি কোনো আতর? নিজ বাড়ির পেছনের পুলের পানিতে এই পূর্ণিমাতে তিনি কি হেঁটে বেড়ান?
একটা বাসার আবছা আলোতে দেখলাম, একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে। সে কি ‘দেবী’? একা বাসায় কোন অচীনপুর থেকে নুপুরের ধ্বনী শুনে, খিলখিল হাসি শুনে ও কি ভয় পাচ্ছে? ছোট্ট কাজের ছেলেটাও এসব শুনে হাপুস নয়নে কাঁদছে? অন্য বাসায় নীলু নামের কোন মেয়ে আজকে কি তীব্র ভালোবাসাময় কোনো চিঠি পেয়ে চন্দ্রাহত? সবুজ রুমাল নিয়ে ওর ভালোবাসার পুরুষ কি ওকে বলবে মেয়ে তুমি তো ভারি মিথ্যুক। তোমাকে দেখে মেঘের ভারে নত হওয়া কোনো আকাশ মনে হচ্ছে। কেন বললে তুমি সুন্দর না?

একটু দূরে দেখছি একটা পুলিশ কার, পাশে একদল পুলিশ দাঁড়ানো। তিনি কি ‘হলুদ হিমু, কালো র্যাবের’ র্যাব? হিমু মাইন্ড কন্ট্রোল করে কুকুর দিয়ে আটক করে রেখেছেন সন্ত্রাসীদের? অসীম ক্ষমতার অধিকারী র্যাব নিয়ে যাবে তাদের হাজতে, তারা যে প্রকৃতির কাছে অসহায় হয়ে পড়েছেন?
হলুদ গেঞ্জি পরা এক লোককে দেখে মনে হচ্ছে হিমু, হাতে এক রাশ নীলপদ্ম নিয়ে হেঁটে চলেছে রূপার জন্য। রূপা নীল শাড়ি ব্যালকনিতে দাঁড়ানো। হিমু কি যাবে শেষ পর্যন্ত রূপার কাছে নাকি বাদলের বসায় যাবে ওকে বোঝাতে, বাদল পরীক্ষা দিতে বসবে। বাদলের বোন রিঙ্কি নতুন বরসহ জোসনা রাতে রওনা হয়েছে কক্সবাজার। তীব্র জোছনায় নতুন জীবনে সুখের শুরু। নাকি হিমু যাচ্ছে বিদেশি মেহমান নিয়ে পানির পাইপে বসে বৃষ্টি দেখতে?
বাসায় পৌঁছে গেলাম ‘দারুচিনি দ্বীপ’–এর ছোট্ট শুভ্রর কাছে। এই তো সেদিনই সে বালিশ হাতে এক মাথা কোঁকড়া চুল নিয়ে মায়ের দরজায় দাঁড়িয়ে বলত মা আমি কি তোমার কাছে শুতে পারি? খাটের নিচে কে যেন বসে আছে।
রোমান্টিক কোনো গল্প বা ভ্রমণ, ভৌতিক কাহিনি, গ্রাম আর শহরের যেকোনো প্রেক্ষাপট কত সহজ সুন্দর করে লিখেছেন তিনি। আবার ‘এই সব দিন রাত্রি’তে তিনি মিশে আছেন, থাকবেন আজীবন। শুভ জন্মদিন প্রিয় লেখক। পৃথিবীতে আপনি না থাকলে সাহিত্যের প্রতি এত তীব্র ভালোবাসা আমার কোনোদিন হতো না। ভালো থাকুন ‘মেঘের ওপর বাড়ি’তে।

ইদানিং ডে লাইট সেভিংসের জন্য সময় এক ঘন্টা পিছিয়েছে। কাজ শেষ করে বাসায় ফিরতে আঁধার নেমে আসে। আজকে ফেরার পথটুকুতে হুট করে ঘন কুয়াশা নেমে গেল, হাই বিম দিয়ে গতি কমিয়ে বাসায় ফিরছি। হুমায়ূন আহমেদের অতিপ্রাকৃত বইয়ের ঘটনা মনে পড়ে গেল, ‘মিসির আলি! আপনি কোথায়?’ ঠিক এমন কুয়াসাভরা সকালে চা খাচ্ছেন মিসির আলি, দূর থেকে মাইন্ড কন্ট্রোল করছে তার গল্পের নায়িকা। সে আসছে অতি সুন্দরী বা সাধারণ মেয়ে রূপে। আমি এক নিশ্বাসে পড়ছি, কবে মিসির আলি শহরে নিজ বাসায় ফিরবেন, এই তো সেদিন।
পথের মাঝে কিছু মানুষকে ইভিনিং ওয়াক করতে দেখছি। এর মাঝে কেউ কি ‘কালো জাদুকর’? ভীন গ্রহের কোনো মানবরূপী গাছ? মানুষের বেশে পৃথিবীতে এসেছে অন্ধ বোনের দৃষ্টি ফেরাতে।
কেউ কি আছে, ‘কুটু মিয়া’র বেশে? অনন্য সাধারণ কোনো রাঁধুনি? কী রোগ হয়েছিল তার যা চিকিৎসার অতীত?
টুপি পরা মানুষটা কি ‘ম্যাজিক মুন্সি’? গ্রামের মসজিদের ইমাম, নিজের বউকে ভালোবাসেন। কোন অলৌকিক উপায়ে অপূর্ব সুগন্ধি গোলাপ হাজির করবেন বা চা পাতার সুগন্ধি কোনো আতর? নিজ বাড়ির পেছনের পুলের পানিতে এই পূর্ণিমাতে তিনি কি হেঁটে বেড়ান?
একটা বাসার আবছা আলোতে দেখলাম, একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে। সে কি ‘দেবী’? একা বাসায় কোন অচীনপুর থেকে নুপুরের ধ্বনী শুনে, খিলখিল হাসি শুনে ও কি ভয় পাচ্ছে? ছোট্ট কাজের ছেলেটাও এসব শুনে হাপুস নয়নে কাঁদছে? অন্য বাসায় নীলু নামের কোন মেয়ে আজকে কি তীব্র ভালোবাসাময় কোনো চিঠি পেয়ে চন্দ্রাহত? সবুজ রুমাল নিয়ে ওর ভালোবাসার পুরুষ কি ওকে বলবে মেয়ে তুমি তো ভারি মিথ্যুক। তোমাকে দেখে মেঘের ভারে নত হওয়া কোনো আকাশ মনে হচ্ছে। কেন বললে তুমি সুন্দর না?

একটু দূরে দেখছি একটা পুলিশ কার, পাশে একদল পুলিশ দাঁড়ানো। তিনি কি ‘হলুদ হিমু, কালো র্যাবের’ র্যাব? হিমু মাইন্ড কন্ট্রোল করে কুকুর দিয়ে আটক করে রেখেছেন সন্ত্রাসীদের? অসীম ক্ষমতার অধিকারী র্যাব নিয়ে যাবে তাদের হাজতে, তারা যে প্রকৃতির কাছে অসহায় হয়ে পড়েছেন?
হলুদ গেঞ্জি পরা এক লোককে দেখে মনে হচ্ছে হিমু, হাতে এক রাশ নীলপদ্ম নিয়ে হেঁটে চলেছে রূপার জন্য। রূপা নীল শাড়ি ব্যালকনিতে দাঁড়ানো। হিমু কি যাবে শেষ পর্যন্ত রূপার কাছে নাকি বাদলের বসায় যাবে ওকে বোঝাতে, বাদল পরীক্ষা দিতে বসবে। বাদলের বোন রিঙ্কি নতুন বরসহ জোসনা রাতে রওনা হয়েছে কক্সবাজার। তীব্র জোছনায় নতুন জীবনে সুখের শুরু। নাকি হিমু যাচ্ছে বিদেশি মেহমান নিয়ে পানির পাইপে বসে বৃষ্টি দেখতে?
বাসায় পৌঁছে গেলাম ‘দারুচিনি দ্বীপ’–এর ছোট্ট শুভ্রর কাছে। এই তো সেদিনই সে বালিশ হাতে এক মাথা কোঁকড়া চুল নিয়ে মায়ের দরজায় দাঁড়িয়ে বলত মা আমি কি তোমার কাছে শুতে পারি? খাটের নিচে কে যেন বসে আছে।
রোমান্টিক কোনো গল্প বা ভ্রমণ, ভৌতিক কাহিনি, গ্রাম আর শহরের যেকোনো প্রেক্ষাপট কত সহজ সুন্দর করে লিখেছেন তিনি। আবার ‘এই সব দিন রাত্রি’তে তিনি মিশে আছেন, থাকবেন আজীবন। শুভ জন্মদিন প্রিয় লেখক। পৃথিবীতে আপনি না থাকলে সাহিত্যের প্রতি এত তীব্র ভালোবাসা আমার কোনোদিন হতো না। ভালো থাকুন ‘মেঘের ওপর বাড়ি’তে।
রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ব্যবস্থাও এই সংকটকে গভীর করেছে। সম্মাননা প্রদানের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব, নির্বাচনের মানদণ্ড প্রকাশ না করা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে সীমিত গোষ্ঠীর প্রভাব—এসব কারণে রাষ্ট্রের সদিচ্ছাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
এই নির্বাচন কেবল আসনসংখ্যার হিসাব নয়; এটি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনারও ইঙ্গিত। তরুণ প্রজন্ম, ডিজিটাল রাজনীতি এবং সুশাসনের প্রশ্ন এখন নির্বাচনের কেন্দ্রবিন্দু। সরকার ও বিরোধী দল উভয়ের জন্যই এটি আত্মসমালোচনা ও নীতিগত পুনর্গঠনের সময়।
আমি রোগীকে বলতে গেলাম। দেখি বউটা কাঁদছে। মেরি ওর নাম। রোগী বলছে, মেরি কেন যে এতটা ঝামেলা করে। ডাক্তার আমাদের চলে যেতে দাও। আমি বললাম, আরেকজন ডাক্তার আছেন যার ওপেনিয়ন নিতে হবে। তিনি তোমাদের চলে যেতে বললে আমি ডিসচার্জ করে দেব, সমস্যা নেই।
তিনি প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৩টা পর্যন্ত নিরলস প্রচারণা চালিয়েছেন। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কোনো রাজনৈতিক নেতার সহধর্মিণীর এমন সক্রিয় ও দীর্ঘ সময় মাঠে থাকার নজির খুব কমই দেখা যায়। তিনি শুধু মঞ্চে ভাষণ দেননি; তিনি মানুষের পাশে বসেছেন, তাদের কথা শুনেছেন।