

সহিদুল আলম স্বপন

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি দৃশ্যমান পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। দীর্ঘদিন ধরে চেপে রাখা বহু কণ্ঠ হঠাৎ করেই প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে। সংবাদ শিরোনামে ফিরে আসে সমালোচনামূলক ভাষা, টকশোতে শোনা যায় ভিন্নমত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাড়ে প্রশ্ন তোলার সাহস। এই প্রেক্ষাপটে অনেকেই বলছেন, বাংলাদেশের গণমাধ্যম কিছুটা স্বাধীন হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়, এই স্বাধীনতা কতটা গভীর, কতটা টেকসই, আর কতটা নিয়ন্ত্রিত?
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কোনো একদিনে অর্জিত হয় না, আবার একটি ঘোষণায় পূর্ণতাও পায় না। ৫ আগস্ট–পরবর্তী সময়ে সংবাদপত্র ও টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে যে পরিবর্তন দেখা গেছে, তা মূলত আংশিক ও শর্তসাপেক্ষ। কিছু বিষয় নিয়ে এখন কথা বলা সম্ভব হলেও আজও রয়ে গেছে কিছু ‘অদৃশ্য সীমারেখা’, যা অতিক্রম করা কঠিন। রাষ্ট্র, ক্ষমতা ও গণমাধ্যমের পারস্পরিক সম্পর্ক এখনো পুরোপুরি স্বচ্ছ ও ভারসাম্যপূর্ণ হয়ে ওঠেনি। ২০২৬ সালের নির্বাচনের পর পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলার সময় আসেনি।
গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে গণমাধ্যমের ভূমিকা মৌলিক ও অনিবার্য। স্বাধীন সাংবাদিকতা ছাড়া জবাবদিহি নিশ্চিত হয় না, ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করাও সম্ভব হয় না। অথচ বাস্তবতা হলো—ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, সম্পাদকীয় চাপ, মালিকানা কাঠামোর রাজনীতি এবং বিজ্ঞাপননির্ভরতার কারণে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম এখনো নানা রকম আত্মনিয়ন্ত্রণে অভ্যস্ত। অনেক ক্ষেত্রে সেন্সরশিপ আসে বাইরে থেকে নয়, ভেতর থেকেই।
৫ আগস্ট–পরবর্তী সময়ে যে আশার আলো দেখা দিয়েছে, তা অনেকটাই এক ধরনের ‘নিয়ন্ত্রিত মুক্তি’। গণমাধ্যম কিছুটা হাঁটার জায়গা পেয়েছে, কিন্তু দৌড়ানোর সাহস এখনো সীমিত। ভিন্নমত প্রকাশ করা গেলেও সেই মত কত দূর পর্যন্ত যেতে পারবে—এই অনিশ্চয়তা থেকেই যায়। ফলে স্বাধীনতা আছে, কিন্তু তা এখনো পূর্ণাঙ্গ নয়।

গণতন্ত্রের উত্তরণ মানে কেবল নির্বাচন বা ক্ষমতার রদবদল নয়। এর সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, তথ্যের অবাধ প্রবাহ এবং নাগরিকের জানার অধিকার। গণমাধ্যম যদি এই দায়িত্ব পূর্ণভাবে পালন করতে না পারে, তবে গণতন্ত্রও খোঁড়া হয়ে পড়ে। তাই বর্তমান সময়ে সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে কেবল প্রশাসনিক অনুমতির স্তরে সীমাবদ্ধ না রেখে সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক নিশ্চয়তায় রূপ দেওয়া।
৫ আগস্ট একটি সম্ভাবনার দিন। কিন্তু সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে গণমাধ্যমকে বিশ্বাস করতে হবে—নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নয়, স্বাধীনতার মাধ্যমে। প্রশ্নকে শত্রু ভাবলে চলবে না; বরং তাকে গণতন্ত্রের শক্তি হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে। অন্যথায় আমরা হয়তো লিখতে পারব, বলতে পারব—কিন্তু সবটা নয়, সব সময় নয়।
(মতামত লেখকের নিজস্ব)
লেখক সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বেসরকারি ব্যাংকিং আর্থিক অপরাধ বিশেষজ্ঞ এবং কলামিস্ট ও কবি

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি দৃশ্যমান পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। দীর্ঘদিন ধরে চেপে রাখা বহু কণ্ঠ হঠাৎ করেই প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে। সংবাদ শিরোনামে ফিরে আসে সমালোচনামূলক ভাষা, টকশোতে শোনা যায় ভিন্নমত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাড়ে প্রশ্ন তোলার সাহস। এই প্রেক্ষাপটে অনেকেই বলছেন, বাংলাদেশের গণমাধ্যম কিছুটা স্বাধীন হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়, এই স্বাধীনতা কতটা গভীর, কতটা টেকসই, আর কতটা নিয়ন্ত্রিত?
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কোনো একদিনে অর্জিত হয় না, আবার একটি ঘোষণায় পূর্ণতাও পায় না। ৫ আগস্ট–পরবর্তী সময়ে সংবাদপত্র ও টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে যে পরিবর্তন দেখা গেছে, তা মূলত আংশিক ও শর্তসাপেক্ষ। কিছু বিষয় নিয়ে এখন কথা বলা সম্ভব হলেও আজও রয়ে গেছে কিছু ‘অদৃশ্য সীমারেখা’, যা অতিক্রম করা কঠিন। রাষ্ট্র, ক্ষমতা ও গণমাধ্যমের পারস্পরিক সম্পর্ক এখনো পুরোপুরি স্বচ্ছ ও ভারসাম্যপূর্ণ হয়ে ওঠেনি। ২০২৬ সালের নির্বাচনের পর পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলার সময় আসেনি।
গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে গণমাধ্যমের ভূমিকা মৌলিক ও অনিবার্য। স্বাধীন সাংবাদিকতা ছাড়া জবাবদিহি নিশ্চিত হয় না, ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করাও সম্ভব হয় না। অথচ বাস্তবতা হলো—ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, সম্পাদকীয় চাপ, মালিকানা কাঠামোর রাজনীতি এবং বিজ্ঞাপননির্ভরতার কারণে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম এখনো নানা রকম আত্মনিয়ন্ত্রণে অভ্যস্ত। অনেক ক্ষেত্রে সেন্সরশিপ আসে বাইরে থেকে নয়, ভেতর থেকেই।
৫ আগস্ট–পরবর্তী সময়ে যে আশার আলো দেখা দিয়েছে, তা অনেকটাই এক ধরনের ‘নিয়ন্ত্রিত মুক্তি’। গণমাধ্যম কিছুটা হাঁটার জায়গা পেয়েছে, কিন্তু দৌড়ানোর সাহস এখনো সীমিত। ভিন্নমত প্রকাশ করা গেলেও সেই মত কত দূর পর্যন্ত যেতে পারবে—এই অনিশ্চয়তা থেকেই যায়। ফলে স্বাধীনতা আছে, কিন্তু তা এখনো পূর্ণাঙ্গ নয়।

গণতন্ত্রের উত্তরণ মানে কেবল নির্বাচন বা ক্ষমতার রদবদল নয়। এর সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, তথ্যের অবাধ প্রবাহ এবং নাগরিকের জানার অধিকার। গণমাধ্যম যদি এই দায়িত্ব পূর্ণভাবে পালন করতে না পারে, তবে গণতন্ত্রও খোঁড়া হয়ে পড়ে। তাই বর্তমান সময়ে সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে কেবল প্রশাসনিক অনুমতির স্তরে সীমাবদ্ধ না রেখে সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক নিশ্চয়তায় রূপ দেওয়া।
৫ আগস্ট একটি সম্ভাবনার দিন। কিন্তু সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে গণমাধ্যমকে বিশ্বাস করতে হবে—নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নয়, স্বাধীনতার মাধ্যমে। প্রশ্নকে শত্রু ভাবলে চলবে না; বরং তাকে গণতন্ত্রের শক্তি হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে। অন্যথায় আমরা হয়তো লিখতে পারব, বলতে পারব—কিন্তু সবটা নয়, সব সময় নয়।
(মতামত লেখকের নিজস্ব)
লেখক সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বেসরকারি ব্যাংকিং আর্থিক অপরাধ বিশেষজ্ঞ এবং কলামিস্ট ও কবি
রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ব্যবস্থাও এই সংকটকে গভীর করেছে। সম্মাননা প্রদানের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব, নির্বাচনের মানদণ্ড প্রকাশ না করা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে সীমিত গোষ্ঠীর প্রভাব—এসব কারণে রাষ্ট্রের সদিচ্ছাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
এই নির্বাচন কেবল আসনসংখ্যার হিসাব নয়; এটি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনারও ইঙ্গিত। তরুণ প্রজন্ম, ডিজিটাল রাজনীতি এবং সুশাসনের প্রশ্ন এখন নির্বাচনের কেন্দ্রবিন্দু। সরকার ও বিরোধী দল উভয়ের জন্যই এটি আত্মসমালোচনা ও নীতিগত পুনর্গঠনের সময়।
আমি রোগীকে বলতে গেলাম। দেখি বউটা কাঁদছে। মেরি ওর নাম। রোগী বলছে, মেরি কেন যে এতটা ঝামেলা করে। ডাক্তার আমাদের চলে যেতে দাও। আমি বললাম, আরেকজন ডাক্তার আছেন যার ওপেনিয়ন নিতে হবে। তিনি তোমাদের চলে যেতে বললে আমি ডিসচার্জ করে দেব, সমস্যা নেই।
তিনি প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৩টা পর্যন্ত নিরলস প্রচারণা চালিয়েছেন। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কোনো রাজনৈতিক নেতার সহধর্মিণীর এমন সক্রিয় ও দীর্ঘ সময় মাঠে থাকার নজির খুব কমই দেখা যায়। তিনি শুধু মঞ্চে ভাষণ দেননি; তিনি মানুষের পাশে বসেছেন, তাদের কথা শুনেছেন।