
ফারহানা আহমেদ লিসা

‘তুই এত সহজে শুধরে যাবি না জানি
তাই হতেই হয় আমাকে অভিমানী’—বন্ধু আমার...
বলছিলাম বন্ধু দিবসের কথা। রাতে নাইট ডিউটি শুরু করব, আধা ঘণ্টা আগে দেখি, বন্ধু (নামটা ধরে নিলাম কিনারি) হাজির। কঠিন মেয়ে সে। কথা দিয়ে কাঁদিয়ে দিতে পারে টাইপের। আমার জন্য কফি নিয়ে এসেছে। বহুদিন পর একসঙ্গে কাজ করব। মধুর গলায় বলল, ফারহানা তুমি ইদানীং বোলিং করতে যাও না, মুভি নাইটেও দেখলাম না আমাদের সঙ্গে।
বললাম, কই আমি তো জানি না কবে গেলে তোমরা।
ও বলল, কেন টেক্সট পাওনি?
বললাম, না। তারপর মনে পড়ল আরে আইডেন্টিটি থেফট হওয়ার কারণে ফোন নম্বর বদলে গেছে আমার। কিনারিকে দেওয়া হয়নি। সরি বলে নম্বর দিলাম।
ও টেক্সট পাঠিয়ে কনফার্ম হয়ে তারপর বলল, তাই তো বলি ফারহানা আমাকে ব্লক করবে কেন।
মনে মনে বললাম এই ১৬ বছরে দুবার কটকট করেছিলে আর আমি চুপ করে ছিলাম মনে নেই? এখন বোঝো বন্ধু না থাকলে কেমন লাগে।
ও দেখি বলেই যাচ্ছে নওরিনকে সেদিন বললাম, ফারহানার এত মন খারাপ ছিল বছরখানেক, কী হয়েছে জানো? ও ঠোঁট উল্টে বলল নাহ, যেন ফারহানার মন খারাপে তার কিছু যায় আসে না। আমি খুব রাগ করেছি। বুঝলাম, আমার খারাপ সময়ে কেউ সমব্যথি না হলেও তার মন খারাপ হচ্ছে।
আমি ওর আনা কফিতে চুমুক দিতে দিতে ভাবছি, তাই তো কী অদ্ভুত বন্ধুত্ব আমাদের, কেউ কেউ ভীষণ রাগী কিনারার মতো, আবার যে আর্মি ভ্যাটারেন সে মাটির মানুষ, কেউ কেউ ফ্যাশনিস্তা আবার কেউ কেউ একেবারে সাধারণ। তবে অভিমান শুধু তাদের ওপরই করি কিনারির মতো যে এটির গুরুত্ব দিতে জানে। শুভ বন্ধু দিবস কলিজার টুকরা বন্ধুগুলা।

অনেকেই বলে পরিণত বয়সে নাকি বন্ধুত্ব হয় না। আমি বলি হয়। কেন হয়? একই রকম ঝামেলায় থাকলে অন্যের জন্য সাহায্যের হাত ঠিকই বাড়িয়ে দেয় সবাই। একসঙ্গে ভালো থাকার চেষ্টা করে। যেমন কোভিডের সময় নানা কারণে কঠিনতম সময় পার করেছি আমরা। বাংলাদেশে নিজেদের ব্যাচমেটদের সঙ্গে কমান্ড সেন্টারে বসে থাকা আমি কোভিডের ওপর কিছু প্রশ্ন উত্তর সেশন করলাম। এরপর পরই ফেসবুকে অনেকের সঙ্গে কানেক্টেড হলাম। যেদিন ছুটি বলে গান, কবিতা, ধর্মীয় আলোচনা কী ছিল না সেই আড্ডায়। দিনের পর দিন। কোভিড পার হয়ে গেল। এখনো অনেকের সঙ্গেই আমার সেই আন্তরিক বন্ধুত্ব রয়ে গেছে। অনেকের পরিবারকে সঙ্গেও। কঠিনতম সময়ে আমার যদি কিছু লাগে বা ওদের এতে অন্যেক জন্য আছি। সুখে–দুঃখে হাসি কাঁদি।
ও হ্যাঁ আমি পিপলস পারসন। সুতরাং কিছু বন্ধু আছে ছোট্টবেলার, কিছু স্কুলের, কিছু কলেজের, মেডিকেলের বন্ধুরা ভীষণ ভীষণ কাছের, ওই যে পার্টনার ইন ক্রাইম। আমেরিকা এসে নতুন দেশে নিজের জায়গা করে নিতে টানাপোড়েনের মধ্যে হয়েছে কিছু দারুণ বন্ধুত্ব। আর রেসিডেন্সি–পরবর্তী কাজে এসেছে অপূর্ব কিছু মানুষ বন্ধু হয়ে। অবশ্যই যাদের মনটা আকাশের মতো উদার, তারাই এসেছে। যারা বন্ধু হিসেবে স্বার্থের কারণে এসেছে, স্বার্থ উদ্ধার হওয়ার পর খুব তাড়াতাড়ি হাওয়া হয়ে গেছে, তারা তেমন আঁচড় কাটতে পারেনি। কেন জানেন? মন খারাপ করে একটা জায়গায় দাঁড়ালেও বন্ধু জেবি এসে জিজ্ঞেস করে পেশেন্টের অনেক কাজ? আমি কি কিছু করতে পারি?
তোদের /তোমাদের/আপনাদের মতো মানুষগুলোর জন্য এক আকাশ সমান ভালোবাসা।

‘তুই এত সহজে শুধরে যাবি না জানি
তাই হতেই হয় আমাকে অভিমানী’—বন্ধু আমার...
বলছিলাম বন্ধু দিবসের কথা। রাতে নাইট ডিউটি শুরু করব, আধা ঘণ্টা আগে দেখি, বন্ধু (নামটা ধরে নিলাম কিনারি) হাজির। কঠিন মেয়ে সে। কথা দিয়ে কাঁদিয়ে দিতে পারে টাইপের। আমার জন্য কফি নিয়ে এসেছে। বহুদিন পর একসঙ্গে কাজ করব। মধুর গলায় বলল, ফারহানা তুমি ইদানীং বোলিং করতে যাও না, মুভি নাইটেও দেখলাম না আমাদের সঙ্গে।
বললাম, কই আমি তো জানি না কবে গেলে তোমরা।
ও বলল, কেন টেক্সট পাওনি?
বললাম, না। তারপর মনে পড়ল আরে আইডেন্টিটি থেফট হওয়ার কারণে ফোন নম্বর বদলে গেছে আমার। কিনারিকে দেওয়া হয়নি। সরি বলে নম্বর দিলাম।
ও টেক্সট পাঠিয়ে কনফার্ম হয়ে তারপর বলল, তাই তো বলি ফারহানা আমাকে ব্লক করবে কেন।
মনে মনে বললাম এই ১৬ বছরে দুবার কটকট করেছিলে আর আমি চুপ করে ছিলাম মনে নেই? এখন বোঝো বন্ধু না থাকলে কেমন লাগে।
ও দেখি বলেই যাচ্ছে নওরিনকে সেদিন বললাম, ফারহানার এত মন খারাপ ছিল বছরখানেক, কী হয়েছে জানো? ও ঠোঁট উল্টে বলল নাহ, যেন ফারহানার মন খারাপে তার কিছু যায় আসে না। আমি খুব রাগ করেছি। বুঝলাম, আমার খারাপ সময়ে কেউ সমব্যথি না হলেও তার মন খারাপ হচ্ছে।
আমি ওর আনা কফিতে চুমুক দিতে দিতে ভাবছি, তাই তো কী অদ্ভুত বন্ধুত্ব আমাদের, কেউ কেউ ভীষণ রাগী কিনারার মতো, আবার যে আর্মি ভ্যাটারেন সে মাটির মানুষ, কেউ কেউ ফ্যাশনিস্তা আবার কেউ কেউ একেবারে সাধারণ। তবে অভিমান শুধু তাদের ওপরই করি কিনারির মতো যে এটির গুরুত্ব দিতে জানে। শুভ বন্ধু দিবস কলিজার টুকরা বন্ধুগুলা।

অনেকেই বলে পরিণত বয়সে নাকি বন্ধুত্ব হয় না। আমি বলি হয়। কেন হয়? একই রকম ঝামেলায় থাকলে অন্যের জন্য সাহায্যের হাত ঠিকই বাড়িয়ে দেয় সবাই। একসঙ্গে ভালো থাকার চেষ্টা করে। যেমন কোভিডের সময় নানা কারণে কঠিনতম সময় পার করেছি আমরা। বাংলাদেশে নিজেদের ব্যাচমেটদের সঙ্গে কমান্ড সেন্টারে বসে থাকা আমি কোভিডের ওপর কিছু প্রশ্ন উত্তর সেশন করলাম। এরপর পরই ফেসবুকে অনেকের সঙ্গে কানেক্টেড হলাম। যেদিন ছুটি বলে গান, কবিতা, ধর্মীয় আলোচনা কী ছিল না সেই আড্ডায়। দিনের পর দিন। কোভিড পার হয়ে গেল। এখনো অনেকের সঙ্গেই আমার সেই আন্তরিক বন্ধুত্ব রয়ে গেছে। অনেকের পরিবারকে সঙ্গেও। কঠিনতম সময়ে আমার যদি কিছু লাগে বা ওদের এতে অন্যেক জন্য আছি। সুখে–দুঃখে হাসি কাঁদি।
ও হ্যাঁ আমি পিপলস পারসন। সুতরাং কিছু বন্ধু আছে ছোট্টবেলার, কিছু স্কুলের, কিছু কলেজের, মেডিকেলের বন্ধুরা ভীষণ ভীষণ কাছের, ওই যে পার্টনার ইন ক্রাইম। আমেরিকা এসে নতুন দেশে নিজের জায়গা করে নিতে টানাপোড়েনের মধ্যে হয়েছে কিছু দারুণ বন্ধুত্ব। আর রেসিডেন্সি–পরবর্তী কাজে এসেছে অপূর্ব কিছু মানুষ বন্ধু হয়ে। অবশ্যই যাদের মনটা আকাশের মতো উদার, তারাই এসেছে। যারা বন্ধু হিসেবে স্বার্থের কারণে এসেছে, স্বার্থ উদ্ধার হওয়ার পর খুব তাড়াতাড়ি হাওয়া হয়ে গেছে, তারা তেমন আঁচড় কাটতে পারেনি। কেন জানেন? মন খারাপ করে একটা জায়গায় দাঁড়ালেও বন্ধু জেবি এসে জিজ্ঞেস করে পেশেন্টের অনেক কাজ? আমি কি কিছু করতে পারি?
তোদের /তোমাদের/আপনাদের মতো মানুষগুলোর জন্য এক আকাশ সমান ভালোবাসা।
বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় তারেক রহমানের সামনেও সেই একই সুযোগ উন্মুক্ত। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ একটি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। নতুন বাংলাদেশ যদি আঞ্চলিক কূটনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা নেয়, তাহলে তা কেবল দেশের জন্য নয়, গোটা দক্ষিণ এশিয়ার জন্যই একটি যুগান্তকারী সুযোগ হতে পারে।
রামিসার ঘটনায় মানুষ রাস্তায় নেমেছে এটি ইতিবাচক দিক। কারণ, জনসচেতনতা তৈরি করতে সামাজিক প্রতিবাদের বিকল্প নেই। রাষ্ট্র ও নীতিনির্ধারকদের জবাবদিহির মুখোমুখি করতেও এ ধরনের আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ।
আমি চুমুক দিই।/ কফির তেতো স্বাদে হঠাৎ বুঝি,/ সব দেশ মানচিত্রে থাকে না,/ কিছু দেশ থাকে মানুষের অপেক্ষায়,/ কিছু শহর জন্ম নেয়/ একটি স্পর্শহীন হাতের ভেতর।
ইতিহাস বলছে, সংখ্যাগুরুদের আধিপত্য ও সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়ন রাষ্ট্র ভাঙনের পথ তৈরি করতে পারে। এ কারণেই ভারত ভাগ হয়ে পাকিস্তান হয়েছিল, আবার পাকিস্তান ভেঙে বাংলাদেশ জন্ম নিয়েছিল।

বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় তারেক রহমানের সামনেও সেই একই সুযোগ উন্মুক্ত। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ একটি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। নতুন বাংলাদেশ যদি আঞ্চলিক কূটনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা নেয়, তাহলে তা কেবল দেশের জন্য নয়, গোটা দক্ষিণ এশিয়ার জন্যই একটি যুগান্তকারী সুযোগ হতে পারে।
২ দিন আগে