
বিডিজেন ডেস্ক

মালয়েশিয়ায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে প্রত্যেকের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছিল ২০ হাজার টাকা। কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরের ২৭ রোহিঙ্গা ও ৪ বাংলাদেশি ছিলেন ওই দলে। মানব পাচারকারীদের প্রলোভনের শিকার হয়ে সাগর পথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যেতে রাজি হয়েছিলেন তারা। সেখানে গেলে তরুণীদের ভালো পাত্রের সঙ্গে বিয়ে হবে, তরুণেরা পাবে উন্নত জীবন ও ভালো বেতনের চাকরি—এমন লোভ দেখানো হয়। তবে মালয়েশিয়া নেওয়ার বদলে টেকনাফের দুর্গম পাহাড়ের আস্তানায় আটকে রাখা হয় তাদের। সেখানে বন্দী অভিবাসন প্রত্যাশীদের আটকে রেখে স্বজনদের কাছ থেকে টাকা এনে দিতে চাপ দেয় পাচারকারীরা।
রোববার (১৭ নভেম্বর) রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। পাশাপাশি র্যাব গ্রেপ্তার করেছে দুই মানব পাচারকারীকে।
খবর প্রথম আলো অনলাইনের।
একদিন আগে উদ্ধার করা হলেও র্যাবের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক তা জানানো হয়নি। গতকাল সোমবার রাত ১১টায় সাংবাদ মাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে র্যাব অভিযানের বিষয়টি প্রকাশ করে।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, ১২ নভেম্বর বিকেল পাঁচটার দিকে উখিয়ার মোছার খোলা এলাকায় এখলাছ মিয়া নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি তাঁর চাচাতো ভাইসহ মেরিন ড্রাইভের কচ্ছপিয়া এলাকায় বেড়াতে যান। সেখান থেকে মানব পাচারকারীরা তাদের অপহরণ করে পাহাড়ের চূড়ায় থাকা একটি আস্তানায় আটকে রাখে। আস্তানায় আগে থেকে বেশ কয়েকজন নারী-পুরুষ, শিশু আটক ছিল। মানব পাচারকারীরা আটক লোকজনকে নির্যাতন চালিয়ে টাকা এনে দেওয়ার দাবি জানান। এখলাছ মিয়াকে চাপ দিলেও তিনি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে মুক্তিপণের টাকা দিতে পারেননি। পরে ১৬ নভেম্বর রাত সোয়া ৮টার দিকে তাঁকে পাহাড় থেকে সমুদ্রসৈকতে আনা হয়। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিল আরও ১৫-২০ জন তরুণ-তরুণী। সবাইকে আনা হয়েছিল সাগর পথে পাচারের উদ্দেশ্যে। তবে ট্রলারে তোলার আগেই এখলাছ কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। এরপর পাহাড়ের আস্তানায় বন্দী চাচাতো ভাইসহ অন্যদের উদ্ধারে তিনি র্যাবের সহায়তা চান।
র্যাব ১৫ কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের সিনিয়র সহকারী পরিচালক (ল অ্যান্ড মিডিয়া) দেবজিত পাল প্রথম আলোকে বলেন, মালয়েশিয়া নেওয়ার কথা বলে আটকে রাখা ২৭ জন রোহিঙ্গাসহ ৩১ জনকে গত রোববার রাতে টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের কচ্ছপিয়া পাহাড়ি এলাকার একটি পরিত্যক্ত আস্তানা থেকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় টেকনাফের হ্নীলার পানখালী ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মো. আনোয়ার (৪৪) ও টেকনাফ সদর ইউনিয়নের উত্তর লম্বরী ২ নম্বর ওয়ার্ডের আতিকুর রহমান (৩২) নামের দুই মানবপাচারকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
র্যাবের সিনিয়র সহকারী পরিচালক দেবজিত পাল বলেন, রোহিঙ্গারা উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন আশ্রয় শিবিরের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। উদ্ধার করা রোহিঙ্গাদের নিজ নিজ আশ্রয়শিবিরে এবং বাংলাদেশিদের তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলার প্রক্রিয়া চলছে।
উদ্ধার হওয়া নারী ও পুরুষেরা জিজ্ঞাসাবাদে জানান, তাদের সাগরপথে মালয়েশিয়ায় নেওয়ার কথা বলে বাহারছড়ার কচ্ছপিয়ার পাহাড়ের চূড়ায় আস্তানায় আটকে রাখে মানব পাচারকারীরা। সেখানে থাকা অবস্থায় তাদের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করে টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। স্বজনদের বলতে বলা হয়, তারা মিয়ানমারে আছেন। এ ভাবে অনেকের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেন পাচারকারীরা। উদ্ধার হওয়া একজন বলেন, তাকে ৮ দিন ধরে পাহাড়ি ওই আস্তানায় আটকে রাখা হয়। অপর একজনকে আটকে রাখা হয় ১৩ দিনের বেশি সময় ধরে। আটক নারী-পুরুষদের ঠিকমতো দেওয়া হতো না খাবার। নির্যাতন করা হতো বিভিন্নভাবে।
র্যাবের একজন কর্মকর্তা বলেন, গত সেপ্টেম্বর থেকে বঙ্গোপসাগর শান্ত হয়ে আসায় মানব পাচারকারীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এই চক্রের সঙ্গে উখিয়া-টেকনাফের কতিপয় ব্যক্তি জড়িত। পাচারকারীরা নারীদের মালয়েশিয়ায় উপযুক্ত পাত্রের সঙ্গে বিয়ে এবং পুরুষদের ভালো বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়েছে। গতকাল সোমবার তাদের নৌকায় তুলে দেওয়ার কথা ছিল।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেন, উদ্ধার ৩১ জনকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হবে। পরিচয় যাচাই–বাছাই চলছে। দুই দালালের বিরুদ্ধে মানব পাচার আইনে মামলা করা হয়েছে। দুজনকে আজ মঙ্গলবার কক্সবাজারের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানোর পাশাপাশি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করা হবে।
সূত্র: প্রথম আলো

মালয়েশিয়ায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে প্রত্যেকের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছিল ২০ হাজার টাকা। কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরের ২৭ রোহিঙ্গা ও ৪ বাংলাদেশি ছিলেন ওই দলে। মানব পাচারকারীদের প্রলোভনের শিকার হয়ে সাগর পথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যেতে রাজি হয়েছিলেন তারা। সেখানে গেলে তরুণীদের ভালো পাত্রের সঙ্গে বিয়ে হবে, তরুণেরা পাবে উন্নত জীবন ও ভালো বেতনের চাকরি—এমন লোভ দেখানো হয়। তবে মালয়েশিয়া নেওয়ার বদলে টেকনাফের দুর্গম পাহাড়ের আস্তানায় আটকে রাখা হয় তাদের। সেখানে বন্দী অভিবাসন প্রত্যাশীদের আটকে রেখে স্বজনদের কাছ থেকে টাকা এনে দিতে চাপ দেয় পাচারকারীরা।
রোববার (১৭ নভেম্বর) রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। পাশাপাশি র্যাব গ্রেপ্তার করেছে দুই মানব পাচারকারীকে।
খবর প্রথম আলো অনলাইনের।
একদিন আগে উদ্ধার করা হলেও র্যাবের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক তা জানানো হয়নি। গতকাল সোমবার রাত ১১টায় সাংবাদ মাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে র্যাব অভিযানের বিষয়টি প্রকাশ করে।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, ১২ নভেম্বর বিকেল পাঁচটার দিকে উখিয়ার মোছার খোলা এলাকায় এখলাছ মিয়া নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি তাঁর চাচাতো ভাইসহ মেরিন ড্রাইভের কচ্ছপিয়া এলাকায় বেড়াতে যান। সেখান থেকে মানব পাচারকারীরা তাদের অপহরণ করে পাহাড়ের চূড়ায় থাকা একটি আস্তানায় আটকে রাখে। আস্তানায় আগে থেকে বেশ কয়েকজন নারী-পুরুষ, শিশু আটক ছিল। মানব পাচারকারীরা আটক লোকজনকে নির্যাতন চালিয়ে টাকা এনে দেওয়ার দাবি জানান। এখলাছ মিয়াকে চাপ দিলেও তিনি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে মুক্তিপণের টাকা দিতে পারেননি। পরে ১৬ নভেম্বর রাত সোয়া ৮টার দিকে তাঁকে পাহাড় থেকে সমুদ্রসৈকতে আনা হয়। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিল আরও ১৫-২০ জন তরুণ-তরুণী। সবাইকে আনা হয়েছিল সাগর পথে পাচারের উদ্দেশ্যে। তবে ট্রলারে তোলার আগেই এখলাছ কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। এরপর পাহাড়ের আস্তানায় বন্দী চাচাতো ভাইসহ অন্যদের উদ্ধারে তিনি র্যাবের সহায়তা চান।
র্যাব ১৫ কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের সিনিয়র সহকারী পরিচালক (ল অ্যান্ড মিডিয়া) দেবজিত পাল প্রথম আলোকে বলেন, মালয়েশিয়া নেওয়ার কথা বলে আটকে রাখা ২৭ জন রোহিঙ্গাসহ ৩১ জনকে গত রোববার রাতে টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের কচ্ছপিয়া পাহাড়ি এলাকার একটি পরিত্যক্ত আস্তানা থেকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় টেকনাফের হ্নীলার পানখালী ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মো. আনোয়ার (৪৪) ও টেকনাফ সদর ইউনিয়নের উত্তর লম্বরী ২ নম্বর ওয়ার্ডের আতিকুর রহমান (৩২) নামের দুই মানবপাচারকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
র্যাবের সিনিয়র সহকারী পরিচালক দেবজিত পাল বলেন, রোহিঙ্গারা উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন আশ্রয় শিবিরের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। উদ্ধার করা রোহিঙ্গাদের নিজ নিজ আশ্রয়শিবিরে এবং বাংলাদেশিদের তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলার প্রক্রিয়া চলছে।
উদ্ধার হওয়া নারী ও পুরুষেরা জিজ্ঞাসাবাদে জানান, তাদের সাগরপথে মালয়েশিয়ায় নেওয়ার কথা বলে বাহারছড়ার কচ্ছপিয়ার পাহাড়ের চূড়ায় আস্তানায় আটকে রাখে মানব পাচারকারীরা। সেখানে থাকা অবস্থায় তাদের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করে টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। স্বজনদের বলতে বলা হয়, তারা মিয়ানমারে আছেন। এ ভাবে অনেকের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেন পাচারকারীরা। উদ্ধার হওয়া একজন বলেন, তাকে ৮ দিন ধরে পাহাড়ি ওই আস্তানায় আটকে রাখা হয়। অপর একজনকে আটকে রাখা হয় ১৩ দিনের বেশি সময় ধরে। আটক নারী-পুরুষদের ঠিকমতো দেওয়া হতো না খাবার। নির্যাতন করা হতো বিভিন্নভাবে।
র্যাবের একজন কর্মকর্তা বলেন, গত সেপ্টেম্বর থেকে বঙ্গোপসাগর শান্ত হয়ে আসায় মানব পাচারকারীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এই চক্রের সঙ্গে উখিয়া-টেকনাফের কতিপয় ব্যক্তি জড়িত। পাচারকারীরা নারীদের মালয়েশিয়ায় উপযুক্ত পাত্রের সঙ্গে বিয়ে এবং পুরুষদের ভালো বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়েছে। গতকাল সোমবার তাদের নৌকায় তুলে দেওয়ার কথা ছিল।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেন, উদ্ধার ৩১ জনকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হবে। পরিচয় যাচাই–বাছাই চলছে। দুই দালালের বিরুদ্ধে মানব পাচার আইনে মামলা করা হয়েছে। দুজনকে আজ মঙ্গলবার কক্সবাজারের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানোর পাশাপাশি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করা হবে।
সূত্র: প্রথম আলো
বৈঠকে লিবিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নমূলক ও অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পগুলোতে আরও বেশিসংখ্যক দক্ষ বাংলাদেশি জনশক্তির অংশগ্রহণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টি ও বিদ্যমান শ্রমবাজার সম্প্রসারণে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিভিন্ন ধাপে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত ১৯১ জনের কাছে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ জারি করা হয়েছে। আরও ২২ জনের কাছে নোটিশ জারির প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
নুরুল হক নুর বলেন, “এক সময় বিদেশে নির্যাতনের শিকার হলে প্রবাসী বাংলাদেশিরা প্রতিকার চাইতে পারতেন না। তবে বর্তমানে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চুক্তির ফলে নির্যাতনের শিকার কর্মীদের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি ও আইনি প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।”